পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও কিংবদন্তি ক্রিকেটার ইমরান খানের আটকাবস্থায় শারীরিক ও মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অস্ট্রেলিয়ার সাতজন সাবেক ক্রিকেট অধিনায়ক। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং-এর কাছে পাঠানো এক চিঠিতে তারা এই মানবিক আবেদন জানান।
চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটের প্রথিতযশা সাবেক কাপ্তানরা— অ্যালান বর্ডার, গ্রেগ চ্যাপেল, ইয়ান চ্যাপেল, বেলিন্ডা ক্লার্ক, কিম হিউজ, মার্ক টেলর এবং স্টিভ ওয়াহ।
চিঠিতে সাবেক এই অধিনায়করা পরিষ্কার করে দিয়েছেন যে, তারা কোনো কূটনীতিবিদ বা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে নন, বরং সহকর্মী ও সাবেক অধিনায়ক হিসেবেই এই কথা বলতে বাধ্য হয়েছেন। আইনি বা রাজনৈতিক মামলার বিষয়ে কোনো পক্ষ না নিয়ে তারা উল্লেখ করেন, রাজনীতি যাই হোক না কেন— আটক থাকা যে কোনো ব্যক্তির সঙ্গেই মানবিক আচরণ করা মৌলিক অধিকারের অংশ।
ইমরান খানের বোন ও দুই সন্তান গত কয়েকমাস ধরে তার স্বাস্থ্যহানি, চিকিৎসায় অবহেলা, পরিবারের সঙ্গে দেখা করার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ এবং আইনজীবীদের সাথে ন্যূনতম যোগাযোগের সুযোগ না পাওয়ার বিষয়ে জনসমক্ষে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছেন। এর আগে গ্রেগ চ্যাপেল গত মাসে এ বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং-এর সঙ্গে সাক্ষাতের অনুরোধ করলেও এখনো কোনো উত্তর পাননি।
বিশ্বজুড়ে সাবেক অধিনায়কদের ধারাবাহিক প্রতিবাদ
ইমরান খানের স্বাস্থ্য ও সুচিকিৎসার দাবিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গন থেকে এর আগেও বেশ কয়েকটি বড় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত ২৩ আগস্ট বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ২২ জন সাবেক আন্তর্জাতিক অধিনায়ক পাকিস্তানের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছিলেন। সেখানে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী ইমরান খানের পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্য পরীক্ষা, চিকিৎসকদের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা এবং সাপ্তাহিক পারিবারিক সাক্ষাতের সুযোগ নিয়মিত বহাল রাখার দাবি জানানো হয়েছিল।
এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ১৪ জন সাবেক আন্তর্জাতিক অধিনায়ক অনুরূপ একটি চিঠিতে স্বাক্ষর করেছিলেন। এছাড়া পাকিস্তানের সাবেক তারকা ক্রিকেটার জাভেদ মিয়াঁদাদ, ওয়াসিম আকরাম ও মঈন খান এবং অস্ট্রেলিয়ার বর্তমান টেস্ট অধিনায়ক প্যাট কামিন্সও ইতিপূর্বে ইমরান খানের সুচিকিৎসা ও অধিকারের পক্ষে জোরালো কণ্ঠস্বর তুলেছেন।