স্বীকৃত কোনো ‘নাইন’ বা খাঁটি স্ট্রাইকার না থাকা এবং ইনজুরিতে বিশ্বনাথ ঘোষের ছিটকে যাওয়ায় ফিফা আসিয়ান কাপে বাংলাদেশের আক্রমণভাগের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন সেন্টার-ফরওয়ার্ড পজিশনে কে খেলবেন। জার্মান-আমেরিকান কোচ টমাস ডুলি উইঙ্গারদের কয়েকজনকে নিয়ে ভাবলেও এই দায়িত্ব শেষ পর্যন্ত কে নেবেন, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
মঙ্গলবার বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় অনুশীলনের আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় কোচ ডুলি বলেন, ‘আমাদের কোনো সত্যিকারের নম্বর নাইন নেই। প্রশ্ন হচ্ছে, আমাদের এখানকার লিগে কেন কোনো নম্বর নাইন তৈরি হচ্ছে না? প্রতিটি ক্লাবই কোনো বিদেশি খেলোয়াড়কে নম্বর নাইন হিসেবে খেলায়, তাই আমরা কোনো নম্বর নাইন তৈরি করতে পারছি না। আমাদের খুঁজে বের করতে হবে যে কে এই পজিশনে খেলতে পারে।’
বিশ্বনাথকে না পাওয়ায় রাকিব হোসেন, শেখ মোরসালিন ও শাহরিয়ার ইমনের মতো উইঙ্গারদের নিয়ে ভাবতে হচ্ছে তাকে। বিশ্বনাথের আক্রমণাত্মক ভূমিকা প্রসঙ্গে ডুলি জানান, ‘এই কারণেই বিশ্বনাথ আমার কাছে এমন একজন খেলোয়াড় যাকে আমি আক্রমণভাগে খেলাতাম পারতাম। সান মারিনো ম্যাচের দিকে তাকালে দেখবেন, সে দ্বিতীয় গোলটিতে অ্যাসিস্ট করেছিল, দু’বার গোলকিপারের সামনে চলে এসেছিল এবং গোলও করতে পারত। সে প্রতিপক্ষের ওপর ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করছিল।’
ডিফেন্ডার হিসেবে বিশ্বনাথের অতিরিক্ত আগ্রাসী খেলার কারণে বক্সের ভেতরে প্রায়ই ফ্রি-কিক বা পেনাল্টির ঝুঁকি তৈরি হয় উল্লেখ করে কোচ বলেন, ‘এখন সে দলের সঙ্গে নেই। আমার মাথায় আসলে তাকে ডিফেন্ডারের চেয়ে একজন আক্রমণাত্মক খেলোয়াড় হিসেবেই বেশি রেখেছিলাম, কারণ সে শতভাগ শক্তি দিয়ে ট্যাকল করতে যায়, যা বক্সে ফ্রি-কিক এবং পেনাল্টির জন্য সবসময়ই বিপজ্জনক হতে পারে। আমি বরং তাকে আক্রমণভাগের খেলোয়াড় হিসেবেই বেশি পছন্দ করব, যেমনটা সে সান মারিনোর বিপক্ষে করেছিল। সে চমৎকার কাজ করেছিল।’
সেন্টার-ফরওয়ার্ডের শূন্যতা পূরণে খেলোয়াড়দের যাচাই করার কথা জানিয়ে ডুলি বলেন, ‘আমাদের কাউকে খুঁজে বের করতে হবে এবং তাকে এমন একটি পজিশনে বসাতে হবে যেখানে সে সেন্টার-ফরওয়ার্ড হিসেবে আমাদের সবচেয়ে বেশি সাহায্য করতে পারে। সে কে হবে, তা আমরা এখনো জানি না। এটি কে করতে পারে সে সম্পর্কে আমার কিছু ভাবনা আছে। সে কি রাকিব, নাকি মোরসালিন? আমাদের দেখে নিতে হবে কে এই দায়িত্ব নিতে এগিয়ে আসে।’
এদিকে তপু বর্মন, জামাল ভূঁইয়া ও ফয়সাল আহমেদ ফাহিমসহ বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় চোটের সমস্যায় থাকলেও ফিফা আসিয়ান কাপ শুরুর আগেই তারা সুস্থ হয়ে উঠবেন বলে আশা প্রকাশ করেন ডুলি।
আসিয়ান কাপে ফল নয়, ভুল থেকে শেখাই মূল লক্ষ্য
র্যাঙ্কিংয়ে পিছিয়ে থাকা এবং শক্তিশালী প্রতিপক্ষ হওয়ায় আসন্ন ফিফা আসিয়ান কাপে বড় কোনো প্রতিশ্রুতি দিতে চান না টমাস ডুলি। তার কাছে টুর্নামেন্টটি অভিজ্ঞতা অর্জন এবং নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের প্রস্তুতির মঞ্চ মাত্র।
আসন্ন ২৫ সেপ্টেম্বর মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে আসিয়ান কাপের মিশন শুরু করবে বাংলাদেশ। ‘এ’ গ্রুপে বাংলাদেশের অন্য দুই প্রতিপক্ষ স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়া ও সিঙ্গাপুর। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ইন্দোনেশিয়া ১১৮, মালয়েশিয়া ১৩৬ এবং সিঙ্গাপুর ১৪৮ নম্বরে অবস্থান করছে, যেখানে বাংলাদেশের অবস্থান ১৮১।
ডুলি বলেন, ‘আপনাদের বুঝতে হবে—আমরা এখানে আন্ডারডগ। র্যাঙ্কিংয়ে প্রতিপক্ষ দলগুলো আমাদের চেয়ে অনেক এগিয়ে। তাই তাদের সঙ্গে লড়াই করতে হলে মাঠের প্রতিটি ছোট ছোট সিদ্ধান্ত নিখুঁত হতে হবে।’ প্রতিপক্ষের কৌশল ও নিজেদের ভুলত্রুটি নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়ে ডুলি যোগ করেন, ‘গতবার আমরা প্রায় জয়ের কাছাকাছি গিয়েও হেরেছিলাম। র্যাঙ্কিংয়ে তারা এগিয়ে থাকলেও আমাদের একটি ভালো দিনে তাদের হারানো সম্ভব।’
টুর্নামেন্টের ফলাফল নিয়ে কাল্পনিক ভাবনা থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়ে কোচ বলেন, ‘ওখানে গিয়েই আমরা প্রথম হব বা সেরা তিনে থাকব—এমন কাল্পনিক চিন্তা করা যাবে না। আমাদের মূল উদ্দেশ্য হলো অভিজ্ঞতা অর্জন করা।’ তিনি আরও মনে করেন, ‘আসিয়ান কাপে হার বা ভুল থেকেও শিক্ষা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।’
আসিয়ান কাপের প্রস্তুতি হিসেবে বর্তমানে বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় অনুশীলন চালাচ্ছে দল। আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর ইন্দোনেশিয়ার উদ্দেশে দেশ ছাড়বে বাংলাদেশ।
নিলামে জার্সি তুলে গাজার শিশুদের পাশে হামজা