মাঠের পারফরম্যান্সে যেমন আলো ছড়াচ্ছেন, তেমনি মাঠের বাইরে নিজের লক্ষ্য নিয়ে খোলামেলা কথা বলতেও পিছপা হচ্ছেন না বার্সেলোনার তরুণ সেনসেশন লামিন ইয়ামাল। স্পেনের হয়ে বিশ্বকাপ এবং বার্সার জার্সিতে লা লিগা জয়ের পর এই তরুণ ফরোয়ার্ড নিজেই জানিয়েছেন যে তিনি ব্যালন ডি’অর জেতার যোগ্য দাবিদার। এতে নানা মহলে কিছুটা সমালোচনা হলেও, তার এমন আত্মবিশ্বাসী মন্তব্যে পূর্ণ সমর্থন দিয়েছেন বার্সেলোনা কোচ হান্সি ফ্লিক।
চলতি মৌসুমে দারুণ ছন্দে থাকা ইয়ামাল সম্প্রতি স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘মোভিস্তারে’ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেছিলেন যে কিলিয়ান এমবাপ্পের সঙ্গে তিনিও বর্তমান বিশ্বের অন্যতম সেরা এবং দলের হয়ে জেতা ট্রফিগুলোর সুবাদে এই ব্যক্তিগত পুরস্কারটি তার পাওনা।
তারই সূত্র ধরে, সংবাদ সম্মেলনে ইয়ামালের এই আত্মবিশ্বাস নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বার্সেলোনা কোচ ফ্লিক নিজের মতামত জানিয়ে বলেন, ‘আমি মনে করি সে সৎ, তার আত্মবিশ্বাস আছে এবং মৌসুমের শুরুতেই সে দেখিয়ে দিচ্ছে সে কতটা ভালো।’
যদিও খেলোয়াড়দের এমন প্রকাশ্যে বড় দাবি করা নিয়ে কোচের কিছুটা ভিন্ন মত থাকে, তবুও ইয়ামালের সাহসিকতাকে ইতিবাচকভাবেই দেখছেন ফ্লিক। ‘সে ব্যতিক্রমী এবং এটি এরই একটি অংশ... আমি হয়তো এটি পছন্দ করতাম না, তবে সে এটি করছে। তার আত্মবিশ্বাস আছে, সে ব্যালন ডি’অর জিততে চায়। একজন খেলোয়াড়ের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সে সৎ, এটি তার নিজস্ব অনুভূতি এবং আমাদের এটি মানতেই হবে। অবশ্যই আমি তাকে সমর্থন করব।’
মাঠে একের পর এক ডিফেন্ডারকে বোকা বানিয়ে ইয়ামালের অবিশ্বাস্য ড্রিবলিং স্টেডিয়ামের দর্শকদের যেভাবে মন্ত্রমুগ্ধ করে, তার পেছনেও রয়েছে এই আত্মবিশ্বাস। ইয়ামালকে নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে ফ্লিক আরও বলেন, ‘সে মাঠেও তার আত্মবিশ্বাস দেখায় এবং আমাদের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ। আমরা সবাই চাই সে যেভাবে খেলে সেভাবেই খেলুক, আর এটি আত্মবিশ্বাসেরই একটি শৈলী। একের পর এক কিংবা দুই-তিনজন খেলোয়াড়কে কাটানো... স্টেডিয়ামের সবাই তখন ‘ওয়াও’ বলে ওঠে। এই তো লামিন এবং আমি তাকে সমর্থন করব।’
তরুণ এই উইঙ্গারের অর্জন ও সম্ভাবনার কথা বলতে গিয়ে বার্সেলোনা বলেন, ‘এমন একজন খেলোয়াড় থাকাটা সত্যিই দারুণ। যখন সে মনে করে যে সে এটি পাওয়ার যোগ্য, তখন আমারও মনে হয় সে আসলেই যোগ্য। সে আমাদের সাথে দুটি ট্রফি জিতেছে, জাতীয় দলের সাথে বিশ্বকাপ জিতেছে কেন নয়?’
তবে তালিকায় আরও অনেক বিশ্বমানের খেলোয়াড় আছে, তাই এটি সহজ হবে না। তবে শেষ পর্যন্ত ভোটারদের সিদ্ধান্ত যদি ইয়ামালের পক্ষেই যায় তবে ফ্লিকেরও খুশির অন্ত থাকবে না। তবে একইরকম মন্তব্য করে এমবাপ্পে যখন পড়েছেন বড় সমালোচনার মুখে দেখানে ইয়ামালে ক্ষেত্রে ফ্লিকের এমন সমর্থন বাড়তি আত্মবিশ্বাস আনারই কথা।
৩ গোল না খেলে প্রাণনাশের হুমকি! গোলরক্ষক খেলেন ৬ গোল