পঞ্চগড় সদরে নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক স্কুলছাত্রীকে ডেকে নিয়ে প্রেমিকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষোভে বিষপানে আত্মহত্যা করেছে ওই স্কুলছাত্রী। পুলিশ অভিযুক্ত প্রেমিক সোহেল (২৫) ও তার সহযোগী ইজিবাইক চালক রফিকুল ইসলাম বাঘা মন্টুকে (২৩) গ্রেপ্তার করেছে। তাদের বাড়ি পঞ্চগড় সদর উপজেলার ভিতরগড় এলাকায়। গত সোমবার রাতে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় ওই স্কুলছাত্রী। গতকাল মঙ্গলবার তার মরদেহ ময়নাতদন্তে পাঠায় পুলিশ।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, স্কুলে যাতায়াতের পথে ওই স্কুলছাত্রীকে বিরক্ত করত সোহেল। এক সময়ে ফুসলিয়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে সে। গত ১০ সেপ্টেম্বর রাত ১০টায় একইভাবে ফুসলিয়ে তাকে বাড়ি থেকে রফিকুলের ইজিবাইকে তুলে নিয়ে যায় সোহেল। পরে তাকে রাজমহল পূর্ববাগান এলাকার আবু সায়েদের বাড়িতে নিয়ে তাদের সহযোগিতায় ধর্ষণ করে। বিষয়টি গোপন রাখার হুমকি দিয়ে রাত ২টায় মডেলহাটগামী একটি ইজিবাইকে তুলে দেয় ওই স্কুলছাত্রীকে। তাকে একা পেয়ে ওই অজ্ঞাত ইজিবাইক চালক ও ২ যাত্রী তার স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেয়। এ সময় অটো থেকে লাফিয়ে নেমে স্থানীয় এক টলি চালকের সহযোগিতায় রক্ষা পায় সে। পরে বাড়িতে কল করে বিষয়টি জানালে তার ভাই এসে বাড়ি নিয়ে যায়। প্রেমিক ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করার রাগে-ক্ষোভে পরদিন সকালে বিষপান করে ওই স্কুলছাত্রী। তাকে উদ্ধার করে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে ৩ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর সোমবার রাতে মারা যায় সে। ১৩ সেপ্টেম্বর পঞ্চগড় সদর থানায় সোহেলসহ ৩ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করে ওই স্কুলছাত্রীর বড় ভাই। ওই স্কুলছাত্রীর পরিবার এ ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছে।