ভাঙনে বিলীন বাহেরচর, নতুন করে নিঃস্ব ২০ পরিবার

আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৪০ পিএম

পায়রা নদীর অব্যাহত ভাঙনে পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার আঙ্গারিয়া ইউনিয়নের বাহেরচর গ্রাম অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। গত কয়েক দিনের ভাঙনে নতুন করে অন্তত ২০টি পরিবার ভিটেমাটি হারিয়ে সরকারি রাস্তার পাশে আশ্রয় নিয়েছে। এ নিয়ে গ্রামটিতে দেড় শতাধিক পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়েছে।

ভাঙন অব্যাহত থাকলে অচিরেই ৩২ নম্বর আঙ্গারিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কাম সাইক্লোন সেল্টার, সিকদার বাড়ি জামে মসজিদ ও মোল্লা বাড়িসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরেই নদীভাঙনের কবলে রয়েছে বাহেরচর। অনেক পরিবার ৮ থেকে ১০ বার পর্যন্ত ঘরবাড়ি সরিয়ে নতুন করে বসতি গড়েছে। এখন আর বসতভিটা না থাকায় বাধ্য হয়ে অনেকে সড়কের পাশে আশ্রয় নিয়েছেন। কেউ কেউ এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে গেলেও অধিকাংশ পরিবার চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

ভুক্তভোগী নিটুলী রানী জানান, এ পর্যন্ত সাতবার ভিটেমাটি হারিয়েছেন তিনি। সর্বশেষ আশ্রয়টুকুও নদীতে বিলীন হওয়ায় এখন রাস্তার পাশে থাকতে হচ্ছে। ‘আর যাওয়ার কোনো জায়গা নাই, সব নদীতে গেছে।’

স্থানীয় বাসিন্দা জাকির খান (৫০) ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘অনেক মানুষ আইছে, অনেক কথা কইছি, কিন্তু কোনো কাজ হয় নাই। কেউ আমাগো দিকটা দেখে না।’

রিপন মাল (৩৭) বলেন, বাপ-দাদার সময় থেকেই এলাকায় ভাঙন চলছে। জীবনে পাঁচ-ছয়বার ঘর সরিয়েছেন। এখন বাধ্য হয়ে বাজারে ভাড়া বাসায় থাকছেন।

আঙ্গারিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি নেতা নাসির উদ্দিন সিকদারের দাবি, এ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৩৫০ একর জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। তিনি জানান, ১৯৭৭-৭৮ সালে নদীর ওপারে নতুন চরে ৬০টি পরিবারের জন্য ৯০ একর জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। তবে বাকেরগঞ্জের লোকজন তা দখল করে রাখায় বাহেরচরের কেউ সেই জমি পায়নি।

ভুক্তভোগী বাদল চৌকিদার বলেন, ‘বারবার ভাঙনে এখন আমাদের কিছুই নাই। বাধ্য হয়ে রাস্তার ওপর থাকতে হচ্ছে।’ তিনি দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের দাবি জানান।

আঙ্গারিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শাহীন গাজী বলেন, পায়রা নদীর ভাঙনে তার ওয়ার্ড প্রায় বিলুপ্তির পথে। দ্রুত ভাঙনরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

ইউপি চেয়ারম্যান মো. জিল্লুর রহমান বলেন, বাহেরচর গ্রাম রক্ষা এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় প্রশাসনের জরুরি পদক্ষেপ প্রয়োজন।

দুমকি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ খায়রুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। ভাঙনরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে বাহেরচর গ্রামটি মানচিত্র থেকে হারিয়ে যেতে পারে। এতে আরও শতাধিক পরিবার চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত