রাজবাড়ীতে সরকার নির্ধারিত দামে কৃষককে সার সরবরাহ নিশ্চিত করা, কৃষিপণ্যে ধলতা (কৃষিপণ্য বেচাকেনার একটি বৈষম্যমূলক ওজন প্রথা) বন্ধে কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া ও প্রকৃত কৃষককে কৃষি কার্ড দেওয়াসহ ১১ দফা দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি দিয়েছে পাংশা উপজেলা বাংলাদেশ কৃষক সমিতির সদস্যরা।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলা পরিষদের সামনে এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।
বিক্ষোভে বক্তারা বলেন, দেশের অর্থনীতির প্রধান বুনিয়াদ কৃষি। পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষভাবে দেশের অর্থনৈতিক-সামাজিক-সাংস্কৃতিক ভিত্তি কৃষির ওপর নির্ভর করে দাঁড়িয়ে আছে। অথচ কৃষি ও কৃষক সবচাইতে নিগৃহীত। কৃষক মাঠে ফসল ফলায়। কিন্তু সেই ফসল ফলাতে সবচাইতে বেশি প্রয়োজন রাসায়নিক সার। দীর্ঘদিন ধরে সারের বাজার অস্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে।
তারা বলেন, সরকার নির্ধারিত এক কেজি ইউরিয়ার সারের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ২৭ টাকা। কিন্তু কৃষককে স্থানভেদে এই সার কিনতে হয় ৩০ থেকে ৩৩ টাকায়। এক কেজি ডিএপি সারের খুচরা মূল্য ২১ টাকা, এক কেজি টিএসপি সারের দাম ২৭ টাকা ও এক কেজি এমওপি (পটাশ) সারের সরকার নির্ধারিত দাম ২০ টাকা। কিন্তু পাংশা ও আশপাশের কোন স্থানেই এই দামে সার পাওয়া যায় না। স্থানভেদে কোন কোন সার ৪৫ টাকা কেজি দরেও কিনতে হয়। তাছাড়া দোকানদাররা বলেন সারের সংকট রয়েছে। অথচ বেশি টাকা হলেই সারের আর অভাব থাকে না। সারের এই সিন্ডিকেট বন্ধ করতে হবে।
শুধুমাত্র সারের দাম বৃদ্ধি নয়, অতিরিক্ত খরচ দিয়ে ফসল উৎপাদন করা হয় বলে জানিয়ে বক্তারা বলেন, সেই ফসল বাজারে নিয়ে গেলে আবার ধলতা দিতে হয়। আন্দোলনের মুখে সরকার দলতা প্রথা বাতিল করেছে। কিন্তু হাটে বাজারে সেটা বাস্তবায়িত হচ্ছে না। এখনও হাটবাজারে পেঁয়াজ, রসুন, পাটসহ বিভিন্ন পণ্যের উপর ধলতা নেওয়া হচ্ছে। প্রশাসনকে এই দিকে নজর দিতে হবে।
এসময় বক্তারা সরকার যে কৃষি কার্ড দিচ্ছে সেটা যেন প্রকৃত কৃষকরা পায় সে বিষয়ে নজর দেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
কৃষকদের অন্য দাবিগুলোর হলো- ইউনিয়ন পর্যায়ে সরকারি ক্রয়কেন্দ্র চালু করতে হবে। সরকারি ক্রয়কৃত পণ্য সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ক্রয় করতে হবে । ফসলের লাভজনক দাম দিতে হবে । সার, বীজ, কীটনাশকসহ কৃষি উপকরণের দাম কমাতে হবে। সবজি সংরক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণ করতে হবে। নিরবিছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। বিএডিসিকে সচল, পল্লী রেশন ও শস্যবীমা চালু করতে হবে। পল্লী বিদ্যুৎ ও ভ‚মি অফিসের অনিয়ম, হয়রানি ও দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে।