ইউপি নির্বাচন নিয়ে ইসির স্বাধীনতা প্রশ্নবিদ্ধ: জামায়াত

আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:১৫ পিএম

ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের সম্ভাব্য সময়সূচি নিয়ে সরকারের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বক্তব্যের ভিন্নতায় কমিশনের স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

বুধবার এক বিবৃতিতে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরোয়ার বলেন, নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা, সাংবিধানিক ক্ষমতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে নতুন করে গুরুতর প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সরকারের আপত্তি বা রাজনৈতিক চাপের মুখে একটি স্বাধীন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করলে দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ও জনগণের ভোটাধিকার হুমকির মুখে পড়ে।

গত ১৪ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশন সাত ধাপে দেশের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের একটি প্রাথমিক রূপরেখা ঘোষণা করে। এতে প্রথম ধাপের ভোট ১২ নভেম্বর এবং সপ্তম ও শেষ ধাপের ভোট ২৭ মে করার সম্ভাব্য তারিখ জানানো হয়।

এর পরদিন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, ইউপি নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণার বিষয়ে সরকার বা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় কিছু জানে না এবং এ নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি।

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত যদি সরকারের পছন্দ-অপছন্দের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, তাহলে কমিশনের সাংবিধানিক স্বাধীনতা কোথায় থাকে-এ প্রশ্নের জবাব দিতে হবে। তিনি বলেন, সরকারের সঙ্গে সাংবিধানিক সহযোগিতা এবং কমিশনের সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ এক বিষয় নয়।

মিয়া গোলাম পরোয়ার অভিযোগ করেন, প্রশাসনিক নানা অজুহাতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিলম্বিত করার প্রবণতা তৈরি হলে অনির্বাচিত প্রশাসকদের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান পরিচালনার মেয়াদ বাড়তে পারে। এতে জনগণের ভোটাধিকার ও স্থানীয় গণতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি বলেন, অনির্বাচিত প্রশাসক কোনোভাবেই নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির বিকল্প হতে পারেন না। স্থানীয় সরকারে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিত্ব প্রতিষ্ঠা তাদের সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার।

বিবৃতিতে জামায়াতের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীনভাবে নির্বাচনের সময়সূচি ও অন্যান্য সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দেওয়া, স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিলম্বিত না করা এবং দ্রুত একটি চূড়ান্ত, সময়বদ্ধ ও বাস্তবায়নযোগ্য নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণার দাবি জানানো হয়।

এ ছাড়া সব প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নিরপেক্ষ রাখা এবং নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক মর্যাদা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতা রক্ষায় সরকারের কার্যকর নিশ্চয়তার দাবি জানানো হয়েছে।

জামায়াতের বিবৃতিতে স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন স্তরে নিয়োগকৃত প্রশাসকদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণাসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত বাতিলসহ দলটির পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনে দেওয়া ৯ দফা দাবি বাস্তবায়নেরও আহ্বান জানানো হয়।

মিয়া গোলাম পরোয়ার বলেন, সরকার নির্বাচন কমিশনকে সহযোগিতা করবে- এটাই সাংবিধানিক প্রত্যাশা। তবে সহযোগিতার নামে নিয়ন্ত্রণ বা চাপ প্রয়োগ এবং প্রশাসনিক যুক্তিতে নির্বাচন বিলম্বিত করার উদ্যোগ গ্রহণযোগ্য নয়।

তিনি নির্বাচন কমিশনকে সংবিধান ও জনগণের ভোটাধিকারের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে কাজ করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে স্থানীয় সরকার নির্বাচন পিছিয়ে না দিয়ে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানান।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত