ইউপি ভোট নিয়ে ইসির স্বাধীনতা প্রশ্নবিদ্ধ : জামায়াত

আপডেট : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৪৩ এএম

ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের সম্ভাব্য সময়সূচি নিয়ে সরকারের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বক্তব্যের ভিন্নতায় কমিশনের স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। গতকাল বুধবার মগবাজারস্থ দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে   দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরোয়ার এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা, সাংবিধানিক ক্ষমতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে নতুন করে গুরুতর প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সরকারের আপত্তি বা রাজনৈতিক চাপের মুখে একটি স্বাধীন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করলে দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ও জনগণের ভোটাধিকার হুমকির মুখে পড়ে।

গত ১৪ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশন সাত ধাপে দেশের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের একটি প্রাথমিক রূপরেখা ঘোষণা করে। এতে প্রথম ধাপের ভোট ১২ নভেম্বর এবং সপ্তম ও শেষ ধাপের ভোট ২৭ মে করার সম্ভাব্য তারিখ জানানো হয়। এর পর দিন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, ইউপি নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণার বিষয়ে সরকার বা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় কিছু জানে না এবং এ নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি।

মিয়া গোলাম পরোয়ার বলেন, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত যদি সরকারের পছন্দ-অপছন্দের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, তাহলে কমিশনের সাংবিধানিক স্বাধীনতা কোথায় থাকে? এ প্রশ্নের জবাব দিতে হবে। তিনি বলেন, সরকারের সঙ্গে সাংবিধানিক সহযোগিতা ও কমিশনের সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ এক বিষয় নয়।

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অভিযোগ করে বলেন, প্রশাসনিক নানা অজুহাতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিলম্বিত করার প্রবণতা তৈরি হলে অনির্বাচিত প্রশাসকদের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান পরিচালনার মেয়াদ বাড়তে পারে। এতে জনগণের ভোটাধিকার ও স্থানীয় গণতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি বলেন, অনির্বাচিত প্রশাসক কোনোভাবেই নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির বিকল্প হতে পারেন না। স্থানীয় সরকারে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিত্ব প্রতিষ্ঠা তাদের সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার। বিবৃতিতে জামায়াতের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীনভাবে নির্বাচনের সময়সূচি ও অন্যান্য সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দেওয়া, স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিলম্বিত না করা এবং দ্রুত একটি চূড়ান্ত, সময়বদ্ধ ও বাস্তবায়নযোগ্য নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণার দাবি জানানো হয়।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত