ককটেল বিস্ফোরণে ঢাবিতে প্রতিবাদ বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের

আপডেট : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৪৬ এএম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) জগন্নাথ হলের মূল ফটকের বাইরের সড়ক ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানসংলগ্ন মেট্রোরেল স্টেশনের নিচের সড়কে তিনটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। গত মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। তবে কে বা কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তা খতিয়ে দেখছেন পুলিশ। এ ঘটনায় কেউ আহত হননি।

ঢাবি ক্যাম্পাসে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ জানিয়েছে বিভিন্ন ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠন। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা, ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা জোরদার এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে তারা। এদিকে ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল। অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে ইসলামী ছাত্রশিবির এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে তিন দফা দাবি জানিয়েছে জাতীয় ছাত্রশক্তি।

জগন্নাথ হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক দেবাশীস পাল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, কে বা কারা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে, তা প্রশাসন খতিয়ে দেখছে। ঘটনার পর হলে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছাড়া অন্য কোনো বহিরাগতকে হলে প্রবেশ করতে না দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জগন্নাথ হলের গেটে থাকা এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, দুই ব্যক্তি মোটরসাইকেলে এসে ককটেল নিক্ষেপ করে পালিয়ে যায়। অন্যদিকে টিএসসিতে অবস্থান করা এক শিক্ষার্থী জানান, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানসংলগ্ন মেট্রো স্টেশনের নিচে ককটেল বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন। ঘটনার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ইসরাফিল রতন বলেন, তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ ও প্রক্টরিয়াল টিম ঘটনাস্থলে গিয়েছিল। কী ধরনের বিস্ফোরক ব্যবহার করা হয়েছে, পুলিশ সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করেছে। তবে কোনো পক্ষকে দায়ী করার মতো সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।

ছাত্রদলের বিক্ষোভ : ঘটনার প্রতিবাদে রাত ১১টা ২০ মিনিটে টিএসসি থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল। মিছিল থেকে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসে সন্ত্রাস, দখলদারি ও পেশিশক্তির রাজনীতি বন্ধ এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিতের দাবি জানানো হয়।

মিছিলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস, সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন, সাংগঠনিক সম্পাদক নাসিরুদ্দিন শাওনসহ বিশ্ববিদ্যালয় ও হল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি শিবিরের  : ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনটির সভাপতি ও ডাকসু এজিএস মুহা. মহিউদ্দিন খান এবং সেক্রেটারি কাজী আশিক দাবি করেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।

তারা ক্যাম্পাসের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত, নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের কথিত গোপন নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং ‘ফ্যাসিবাদী অপশক্তির পুনর্বাসন’ বন্ধেরও দাবি জানান। একই সঙ্গে প্রশাসনের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তারা।

প্রশাসনের কাছে ছাত্রশক্তির তিন দাবি : ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনার প্রতিবাদ ও তদন্তের দাবিতে রাত সাড়ে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের সঙ্গে দেখা করেন জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতারা। এ সময় তারা প্রশাসনের কাছে তিন দফা দাবি জানান। দাবিগুলো হলো সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হামলাকারী ও পরিকল্পনাকারীদের চিহ্নিত করা; নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের যেসব কর্মী ছদ্মবেশে ক্যাম্পাসে অবস্থান করছে, তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া এবং ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা জোরদার করে শিক্ষার্থীদের জন্য শতভাগ নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা।

ছাত্র ফ্রন্টের বিচার দাবি : ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে সংশ্লিষ্ট এলাকার সব সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জড়িতদের চিহ্নিত, গ্রেপ্তার ও বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনটির আহ্বায়ক মোজাম্মেল হক ও সাধারণ সম্পাদক আকাশ আলী বলেন, ককটেল বিস্ফোরণের মাধ্যমে ক্যাম্পাসকে অস্থিতিশীল ও ভীতিকর করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত