মোহাম্মদপুর ডি-টাইপ কলোনির ২৮৮ পরিবারকে পুনর্বাসন দাবি

আপডেট : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৫১ এএম

দীর্ঘ পাঁচ যুগেরও বেশি সময় ধরে আটটি ভবনের ২০০ বর্গফুটের ক্ষুদ্র ফ্ল্যাটগুলোই ছিল আমাদের স্থায়ী ঠিকানা। কিন্তু আজ আমরা পরিচয়পত্রহীন ও দেশের নাগরিকত্ব থেকে বঞ্চিত হতে চলেছি মোহাম্মদপুর হাউজিং এস্টেট ডি-টাইপ কলোনি কল্যাণ সমিতির ডাকা সংবাদ সম্মেলনে এমন আক্ষেপ করা হয়।

সমিতির সভাপতি মরগুব আহমেদ নাজম উদ্দিন বলেন, ১৯৬০ সালে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে এবং একটি জার্মান এনজিওর সহায়তায় মোহাম্মদপুর ডি-টাইপ কলোনিতে ২৮৮টি পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়।

তিনি জানান, ২০১৯ সালে ‘কনকচাঁপা’ ও ‘দোলনচাঁপা’ নামে ৪৩০টি নতুন ফ্ল্যাট নির্মাণের প্রকল্প নেওয়া হয়। তখন জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ (জাগৃক) আশ্বাস দিয়েছিল নির্মাণাধীন নতুন বহুতল ভবনে ক্ষতিগ্রস্ত ২৮৮টি পরিবারকেই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পুনর্বাসিত করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, মোহাম্মদপুরের এই মূল্যবান জমির ওপর চোখ পড়েছে এক শ্রেণির সুবিধাভোগী ও দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের। ফলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই আশ্বাস প্রতারণায় পরিণত হয়েছে। এমনকি হাইকোর্টের রায় উপেক্ষা করে বারবার শর্ত পরিবর্তন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়। এ ছাড়া বকেয়া ভাড়া ও ইউটিলিটি বিল পরিশোধের জন্য নির্বাহী প্রকৌশলীর প্রত্যয়নপত্র জমা দেওয়া এবং জামানতসহ প্রতিটি পরিবার ৬ থেকে ৮ লাখ টাকা খরচ করা সত্ত্বেও, ২৫৭টি আবেদনের মধ্যে ১২৭টি আবেদনকে অন্যায়ভাবে ‘অবৈধ’ ঘোষণা করে বাদ দেওয়া হয়েছে। এমনকি মূল ২৮৮টি নথির মধ্যে ১১৫টি নথি গায়েব করে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, নতুন আবেদনকারীদের সমান দাম ধরা হয়েছে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য এবং কিস্তি পরিশোধের সময় ৮ বছর থেকে কমিয়ে মাত্র ৪ বছর করা হয়েছে। এ ছাড়া সংরক্ষিত কোটায় ৫২টি, গ্রেডেশনে ৫৬টি এবং বিতর্কিত লটারির মাধ্যমে ৫৬টিসহ মোট ১৬৫টি ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এমনকি জাগৃকের তৎকালীন চেয়ারম্যান নিয়মবহির্ভূতভাবে নিজের নামে ফ্ল্যাট নিয়েছেন এবং চার কর্মকর্তা লটারি ছাড়াই একাধিক ফ্ল্যাট ও গ্যারেজ দখলে নিয়েছেন। ভবন ভাঙার সময় আনুমানিক ২ কোটি টাকার সরঞ্জাম আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন ও বিতর্কিত কমিটি বাতিল করে নতুন স্বাধীন যাচাই-বাছাই কমিটি গঠন, ২৮৮টি পরিবারের জন্য ২৮৮টি ফ্ল্যাটের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ পুনর্বাসন, মানবিক কিস্তি সুবিধা ও দ্রুত ফ্ল্যাট হস্তান্তর, আবেদনের সুযোগ থেকে বাদ পড়া ৩৫টি পরিবারকে পুনরায় আবেদনের সুযোগ, দোলনচাঁপা প্রকল্পে ভবনভিত্তিক বৈষম্য দূরীকরণ, কনকচাঁপায় অতিরিক্ত ৩টি লিফট স্থাপন, বাইতুস সুজুদ জামে মসজিদকে প্রকল্পের স্থায়ী অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্তকরণের দাবি জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তি

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত