ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করে বিভেদ সৃষ্টি করা উচিত নয়: আইনমন্ত্রী

আইনমন্ত্রী আরও বলেন, ‘শ্রীকৃষ্ণের জন্মকাহিনি থেকে অন্যায়, অত্যাচার ও নিষ্ঠুরতার বিরুদ্ধে ন্যায় প্রতিষ্ঠার শিক্ষা পাওয়া যায়। যত শক্তিশালীই হোক, অন্যায় ও নিষ্ঠুরতার পরিণতি থেকে কেউ রক্ষা পেতে পারে না।’

আপডেট : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:২৪ পিএম

ধর্ম মানুষের বিশ্বাস ও শ্রদ্ধার জায়গা। তাই ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করে মানুষের মধ্যে বিভেদ বা রক্তপাত সৃষ্টি করা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

তিনি বলেছেন, ‘বাংলাদেশ সকল ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের দেশ। তাই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহাবস্থান বজায় রেখে একটি সুন্দর ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।’

আজ বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঢাকা আইনজীবী সমিতির (ঢাকা বার) অডিটোরিয়ামে শ্রীকৃষ্ণের শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে ঢাকা আইনজীবী সমিতির উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘ধর্ম মানুষের বিশ্বাস ও শ্রদ্ধার জায়গা এবং ইহকাল ও পরকালের বিষয়। ধর্মকে রাজনৈতিক ক্ষেত্রে নিয়ে এসে মানুষের রক্তপাত ঘটানো উচিত নয়। সাম্প্রদায়িকতাকে কেন্দ্র করে কোনো রাজনীতি বা ধর্মকে নিয়ে কোনো ধরনের ব্যবসা করা উচিত নয়।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ হিন্দু, মুসলিম, খ্রিস্টান, বৌদ্ধসহ সকল ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের। এ দেশের প্রতিটি নাগরিকের নিজ নিজ ধর্ম পালনের পাশাপাশি অন্যের ধর্ম ও বিশ্বাসের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকতে হবে। সকল সম্প্রদায়ের সহাবস্থানের ভিত্তিতে একটি সাম্প্রদায়িকতামুক্ত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ভূমিকা রাখতে হবে।’

আইনমন্ত্রী আরও বলেন, ‘শ্রীকৃষ্ণের জন্মকাহিনি থেকে অন্যায়, অত্যাচার ও নিষ্ঠুরতার বিরুদ্ধে ন্যায় প্রতিষ্ঠার শিক্ষা পাওয়া যায়। যত শক্তিশালীই হোক, অন্যায় ও নিষ্ঠুরতার পরিণতি থেকে কেউ রক্ষা পেতে পারে না।’

মন্ত্রী বলেন, ‘একজন মানুষের ধর্মীয় পরিচয় যাই হোক না কেন, রাষ্ট্র ও সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে ন্যায়, সততা ও মানবিকতাই প্রধান বিষয়। আদালতে একজন আইনজীবীর পরিচয় তাঁর ধর্মীয় পরিচয়ে নয়; তিনি একজন আইনজীবী হিসেবে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় দায়িত্ব পালন করেন। সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রেও পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্প্রীতির এই চেতনা ধারণ করতে হবে।’

অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান বলেন, ‘এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে সকল ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে সহাবস্থান করবে। আগামী প্রজন্মের জন্য বাংলাদেশকে একটি সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও বাসযোগ্য ভূমি হিসেবে গড়ে তোলার দায়িত্ব আমাদের সবার।’

অনুষ্ঠানে ঢাকার সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো. শাহজাহান কবির, মহানগর দায়রা জজ মো. রফিকুল ইসলাম, চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান এবং ভারপ্রাপ্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহবুবুর রহমানসহ বিভিন্ন স্তরের বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তারা, ঢাকা আইনজীবী সমিতির নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত