রাশিয়ায় শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) তিন দিনব্যাপী পার্লামেন্ট নির্বাচন শুরু হয়েছে। ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধের প্রতি জনগণের সমর্থনের মাত্রা যাচাইয়ের একটি সূচক হিসেবে এবারের নির্বাচনকে তুলে ধরেছেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। খবর রয়টার্সের।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর এটিই রাশিয়ার প্রথম পার্লামেন্ট নির্বাচন। এই নির্বাচনের মাধ্যমে দেশটির ৪৫০ আসনের নিম্নকক্ষ স্টেট দুমার সদস্য নির্ধারিত হবে। কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত রাজনৈতিক ব্যবস্থায় এবারের নির্বাচনেও পুতিনপন্থী ক্ষমতাসীন ইউনাইটেড রাশিয়া পার্টি তাদের আধিপত্য ধরে রাখবে বলে ব্যাপকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
যুদ্ধবিরতির পক্ষে থাকা উদারপন্থী ইয়াবলোকো পার্টি নির্বাচনী বিধি লঙ্ঘন করেছে বলে রাশিয়ার সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর অধিকাংশ যুদ্ধবিরোধী প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ হারিয়েছেন। তবে ইয়াবলোকোর কিছু প্রার্থী এখনো পৃথক আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
নির্বাচনের আগে জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক টেলিভিশন ভাষণে পুতিন বলেন, ভোট দেওয়া ইউক্রেনে রাশিয়ার বিজয় নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে এবং বিদেশি চাপের মুখে দেশের দৃঢ়তা প্রকাশ করবে। ক্রেমলিনের দাবি, ইউক্রেনের গোয়েন্দা সংস্থা ও অন্যান্য শত্রুপক্ষ রাশিয়ার অভ্যন্তরে অস্থিরতা সৃষ্টির জন্য ক্রমেই বিপজ্জনক তৎপরতা চালাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে জাতীয় ঐক্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে এমন এক সময়ে নির্বাচন হচ্ছে, যখন জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে, সংঘাতের প্রভাব নিয়ে রাশিয়ার কিছু নাগরিকের উদ্বেগ বেড়েছে। অর্থনীতিও চাপের মধ্যে রয়েছে। ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় জ্বালানি সংকটের কারণে দেশটির কিছু অঞ্চলে পরিস্থিতি অস্থির হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি উচ্চ সুদের হার, শ্রমিক সংকট ও পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোও চাপে রয়েছে।
এসব পরিস্থিতিতে নির্বাচনের মাধ্যমে রাশিয়ার জনগণের মধ্যে যুদ্ধক্লান্তির মাত্রা কতটা গভীর, তা যাচাই করার চেষ্টা করা হবে বলে মনে করা হচ্ছে। রবিবার গ্রিনিচ মান সময় সন্ধ্যা ৬টা থেকে নির্বাচনের প্রাথমিক ও আংশিক ফল প্রকাশ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। সোমবারের মধ্যে প্রায় পূর্ণাঙ্গ ফলাফল পাওয়া যেতে পারে।