‘স্যান্ডপেপার’ কেলেঙ্কারি নিয়ে স্মিথ, ‘ক্যামেরার সামনে এলেই অস্বস্তি কাজ করে’

আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৩৫ পিএম

ক্রিকেট বিশ্বের অন্যতম সেরা ব্যাটার স্টিভ স্মিথ এখনো ২০১৮ সালের ‘স্যান্ডপেপার গেট’ বা বল টেম্পারিং কেলেঙ্কারির দুঃসহ স্মৃতি বয়ে বেড়াচ্ছেন। দীর্ঘ আট বছর পেরিয়ে গেলেও সেই ঘটনার ক্ষত ও ক্যামেরার ফ্ল্যাশের আওয়াজ আজও তাকে ফেলে যাওয়া অতীতে ফিরিয়ে নিয়ে যায়। দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের ঠিক আগমুহূর্তে এক সাক্ষাৎকারে নিজের সেই মানসিক যন্ত্রণার কথা ফের প্রকাশ করেছেন এই অজি তারকা।

২০১৮ সালের সেই দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে কেপটাউন টেস্টে বল টেম্পারিংয়ের ঘটনায় ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া কর্তৃক এক বছরের নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েছিলেন সাবেক অধিনায়ক স্মিথ। পরবর্তীতে কঠিন সেই সময় পার করে খেলায় ফিরে নিজেকে বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম সেরা ব্যাটার হিসেবে পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করলেও সেই মুহূর্তগুলোর ট্রমা এখনো তার মন থেকে পুরোপুরি মুছে যায়নি। আর সফরটা যখন ফের প্রোটিয়ারদের ডেরায় সেখানে সেই স্মৃতি যেন ফিরে আসারই কথা। 

জোহানেসবার্গ বিমানবন্দর নেকড়ের মুখে ফেলে দেওয়ার মতো ভয়ংকর দিনগুলো 

সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার গণমাধ্যম কোড স্পোর্টস-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সেই কঠিন সময়ের স্মৃতিচারণ করে স্মিথ বলেন, ‘আমি ক্যামেরার বড় কোনো ভক্ত নই, ক্যামেরার সামনে গেলেই আমার মধ্যে এক ধরনের অস্বস্তি কাজ করে। সেটি আমার জীবনের একটি অত্যন্ত ট্রমাটিক অভিজ্ঞতা ছিল এবং যখনই আমি ক্যামেরার ফ্ল্যাশের শব্দ শুনি, কোনো না কোনোভাবে এটি আমাকে সেই দিনে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।’ 

নিষেধাজ্ঞার খবরের পরের সময়গুলোর কথা স্মরণ করে স্মিথ আরও বলেন, ‘জেমসের (তৎকালীন ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া প্রধান নির্বাহী জেমস সাদারল্যান্ড) কাছ থেকে এক বছরের নিষিদ্ধ হওয়ার খবর পাওয়ার পর ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা জোহানেসবার্গ বিমানবন্দরে চরমভাবে হেনস্তার শিকার হয়েছিলাম এবং দেশে ফিরে সেই প্রেস কনফারেন্স করা... আজও মাঝেমধ্যে সেগুলোর ছোটখাটো ফ্ল্যাশব্যাক আমার মনে ফিরে আসে। আমার মনে হয়েছিল জোহানেসবার্গ বিমানবন্দরে আমাকে যেন নেকড়ের মুখে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। সেখানে আমার পাশে কোনো ধরনের সমর্থন বা সাহায্য ছিল না।’ 

প্রাথমিক সেই দিনগুলোর মানসিক অবস্থার কথা বলতে গিয়ে স্মিথ জানান, তখনকার মানসিক অবস্থা মোটেও ভালো ছিল না এবং তিনি চেষ্টা করেছেন ২০১৮ সালের সেই অন্ধকার সময়গুলো নিজের স্মৃতি থেকে মুছে ফেলতে। তবে অতীতের সেই শিক্ষা থেকেই তিনি সামনে এগিয়ে যাওয়ার শক্তি খুঁজে পেয়েছেন।

টেস্ট ক্রিকেটে নিজের ভবিষ্যৎ ও অলিম্পিকের স্বপ্ন

স্যান্ডপেপার কেলেঙ্কারির এই অধ্যায়ের বাইরেও নিজের ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বিভিন্ন দিক নিয়ে স্মিথ কথা বলেছেন দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে। ক্যারিয়ারের এই অন্তিম পর্যায়ে এসে টেস্ট ক্রিকেট ছাড়ার গুঞ্জন এবং অলিম্পিক খেলার স্বপ্নের কথা জানিয়েছেন তিনি।

নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে স্মিথ বলেন, ‘আমি জানি না আমি সেখানে (পরবর্তী অ্যাশেজ) থাকতে পারব কি না। আমি এখন সিরিজ ধরে ধরে এগোচ্ছি এবং এটি অনেক দূরের বিষয়। তাই দেখা যাক শেষ পর্যন্ত কী হয়।’

টেস্ট ফরম্যাট থেকে যেকোনো সময় অবসরের ইঙ্গিত দিলেও তার চোখ এখন ২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকের দিকে। এ বিষয়ে স্মিথ বলেন, ‘বর্তমানে অলিম্পিকের অংশ হওয়ার চেষ্টা করাটাই আমার বড় লক্ষ্য। যত বেশি সম্ভব টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট খেলা চালিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যেই আমি এখানে খেলতে এসেছি।’ 

বর্তমান সময়ের টেস্ট ক্রিকেটে পেসারদের ‘ওবল সিম’ বা গতিপথ পরিবর্তন করে বল করা ব্যাটারদের জন্য কাজটিকে কীভাবে আরও দুর্বিষহ করে তুলেছে, তা নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন স্মিথ। পিচের বর্তমান অবস্থা নিয়ে তিনি বলেন, ‘এখন এমন কিছু বল আসে যা খেলা অসম্ভব। কিছু বলের গায়ে আপনার নাম লেখা থাকে এবং আপনি চাইলেও সেগুলোর বিরুদ্ধে কিছু করতে পারবেন না। বল যদি দুই ডিগ্রিও সিম করে, তবে সেই বলের নাগাল পাওয়া যায় না।’ 

আধুনিক টেস্ট ক্রিকেটে স্পিন বোলিংয়ের প্রভাব কমে যাওয়া এবং পেস সহায়ক পিচের আধিক্য নিয়ে নিজের হতাশা লুকাননি এই অভিজ্ঞ ব্যাটার। ‘গত গ্রীষ্মে এমন কিছু সময় গেছে যখন আমরা কোনো স্পিনার ছাড়াই মাঠে নেমেছি, যা অত্যন্ত বিরল। পিচ যখন এতটাই নড়াচড়া করে যে বোলাররা কেবল এক জায়গায় বল ফেলে চাপ সৃষ্টি করতে পারে, তখন স্পিন খেলা সবচেয়ে সহজ মনে হয়। আমার কাছে মনে হয় এটি বেশ দুঃখজনক যে উইকেটে এমন সব পিচ তৈরি করা হয়েছে যেখানে স্পিন তার গুরুত্ব হারিয়ে ফেলছে। আমি এখনও স্পিন বল করতে এবং দেখতে ভালোবাসি।’ 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত