আসিয়ান কাপে যাওয়ার আগে আজকের সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ফুটবল দলের প্রধান কোচ টমাস ডুলি বলেছেন, রাতারাতি অলৌকিক কিছু ঘটিয়ে বড় দলগুলোকে হারিয়ে দেওয়ার অবাস্তব প্রত্যাশা থেকে ফুটবলপ্রেমীদের বেরিয়ে আসতে হবে। আসন্ন টুর্নামেন্টগুলোকে সামনে রেখে সংবাদ সম্মেলনে দলের বর্তমান সামর্থ্য, প্রস্তুতি এবং ইনজুরি সমস্যা নিয়েও কথা বলেছেন তিনি।
শুরুতেই দলের রক্ষণভাগের মূল ভরসা তপু বর্মণের ছিটকে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন কোচ ডুলি। জানান, ক্যাফের মাংসপেশিতে ছোটখাটো টিয়ার থাকায় টুর্নামেন্টের আগে তাকে ফিট করে তোলার শেষ চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু স্ক্যানের রিপোর্টে মাংসপেশিতে ডার্ক স্পট ধরা পড়ায় চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী তাকে ঝুঁকি না নিয়ে স্কোয়াড থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এই প্রসঙ্গে কোচ সংবাদ সম্মেলনে জানান, ‘সাফ তো এই টুর্নামেন্টের চেয়ে স্পষ্টতই বেশি গুরুত্বপূর্ণ, তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে সে আমাদের সঙ্গে যাচ্ছে না কারণ সে খেলতে পারবে না।’
অন্য খেলোয়াড়দের ইনজুরি সমস্যা নিয়ে বলতে গিয়ে ডুলি মোরসালিনের শারীরিক পরিস্থিতি সম্পর্কে জানিয়ে বলেন, ‘মোরসালিনের ঘাড় ও ঘুমের সমস্যা ছিল, এর পাশাপাশি তার ক্যাফেও ছোট একটা টিয়ার ধরা পড়েছিল। তবে সে অনুশীলন করতে পেরেছিল এবং দিনকয়েক আগে ক্যাফে কিছু অনুভব করায় আমরা এমআরআই করিয়ে দেখি যে সমস্যাটা খুবই সামান্য। আর মাত্র তিন দিন সময় লাগবে, এরপরই সে পুরোপুরি অনুশীলনে যোগ দিতে পারবে। এ কারণেই সে এখনও স্কোয়াডে আছে।’
বড় দলগুলোর বিপক্ষে বাংলাদেশের ম্যাচ প্রসঙ্গে কোচ ডুলি জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই দলের সক্ষমতা না বুঝেই অতিরিক্ত প্রত্যাশা করে বসেন। প্রতিপক্ষ দলগুলোর স্কোয়াডে বুন্দেসলিগা কিংবা ইউরোপের শীর্ষ লিগের ক্লাবে খেলা ফুটবলাররা থাকলেও বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সেই চিত্র একেবারেই ভিন্ন। এসব নিয়ে কোচ আরও বলেন, ‘কোনো কোচ আপনাকে জাদুকরী পানীয় দিয়ে রাতারাতি ভালো করে দিতে পারবে না। আমরা ১৮০ থেকে ১৫০ র্যাঙ্কিংয়ে পৌঁছাতে চাইলে দুই-তিন বছর সময় লাগবে। ইন্দোনেশিয়া বা মালয়েশিয়ার মুখোমুখি হয়ে হঠাৎ করেই সবাইকে হারিয়ে দেওয়ার ভাবনা অবাস্তব। মাঠে আমাদের ছেলেরা শেষ মিনিট পর্যন্ত লড়াই করবে, যদি দুই-তিন গোলে হেরেও যাই কিন্তু ভালো ফুটবল খেলি। সেটাই আমার কাছে বড় প্রাপ্তি।’
বাংলাদেশের ফুটবলারদের দীর্ঘ সময় প্রতিযোগিতামূলক খেলার বাইরে থাকা এবং অপর্যাপ্ত প্রস্তুতির বিষয়টিও তুলে ধরেন কোচ। ইউরোপ বা অন্য দেশের লিগগুলো যেখানে নিয়মিত চালু থাকে, সেখানে স্থানীয় ফুটবলাররা লম্বা সময় ধরে পর্যাপ্ত ম্যাচ ও প্রি-সিজন ছাড়াই মাঠে নামছেন। মাত্র চার সপ্তাহের মধ্যে পুরো ফিটনেস ফিরে পাওয়ার চ্যালেঞ্জ নিয়ে ডুলি উল্লেখ করেন, খেলোয়াড়রা হৃদয়ের সবটুকু নিবেদন দিয়ে লড়াই করলেও শারীরিক ক্লান্তি একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
সমর্থকদের উদ্দেশে কোচ আহ্বান জানান, সোশ্যাল মিডিয়ায় ফুটবলারদের অযথা আক্রমণ না করে কঠিন সময়ে তাদের পাশে দাঁড়ানো উচিত। এই বিষয়ে তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, ‘কিছু লোক সোশ্যাল মিডিয়ায় আমাদের খেলোয়াড়দের ওপর চড়াও হয় এবং তাদের ক্যারিয়ার ধ্বংস করে দেয়। আমাদের এই খেলোয়াড়দের প্রতি আরও সহনশীল ও সমর্থনশীল হতে হবে।’
ভুটান, শ্রীলঙ্কা বা মালদ্বীপের মতো দলগুলোর বিপক্ষে জয়ের তাগিদ থাকলেও শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে দলের লড়াকু মানসিকতা এবং ইতিবাচক দিকগুলো দেখার অনুরোধ জানান তিনি। শেষ পর্যন্ত বড় টুর্নামেন্টে ভালো কিছু করতে হলে দল ও সমর্থক উভয়কেই বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা নিয়ে এগোতে হবে বলে মত দেন বাংলাদেশ দলের এই কোচ।
মহসিন নাকভির হাত থেকে এশিয়ান গেমস পদক নেবে ভারত!