'জোড়া ফুল' হারিয়ে 'ফুটবলার' পেলেন মমতা, জানাল আদালত

মহারাষ্ট্রে শিবসেনা ও এনসিপির বিভাজনের প্রসঙ্গ টেনে মমতা বলেন, ‘আমাদের আগে উদ্ধব ঠাকরের দলের প্রতীক কেড়ে নিয়েছে। এনসিপিকে ভেঙেছে। এবার আমাদের।’

আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:১৬ পিএম

তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় নাম ও প্রতীক নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) উপনির্বাচনের জন্য তৃণমূলের দুই শিবিরের পৃথক নাম ও প্রতীক চূড়ান্ত করে কমিশন। মমতার শিবিরের নাম দেওয়া হয়েছে ‘মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’। ৬ অক্টোবরের উপনির্বাচনে তারা লড়বে ফুটবল পায়ে ফুটবলার প্রতীকে। অন্যদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের নাম ‘গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস’এবং প্রতীক খাম। খবর আনন্দবাজার ডটকমের।     

এর আগে পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম ও মুর্শিদাবাদের রেজিনগরে উপনির্বাচন সামনে রেখে কমিশন অন্তর্বর্তী নির্দেশে তৃণমূলের ঘাসফুল প্রতীক ‘ফ্রিজ’ করে দেয়। মমতার এ মামলায় বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে পক্ষ করা হয়েছে। শীর্ষ আদালত সূত্রে জানা গেছে, আগামী সপ্তাহে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হতে পারে।  

কমিশনের সিদ্ধান্তের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতে নতুন মোড় নেয়। নন্দীগ্রামে মমতা শিবিরের প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেন। এরপর সংবাদ সম্মেলনে বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরব হন মমতা। তিনি জানান, নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থন করবে তৃণমূল।

এর কয়েক ঘণ্টা পর পুরোনো একটি হত্যা মামলায় নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান গ্রেপ্তার হন।

দলীয় নাম ও প্রতীক হারানোর ঘটনাকে ‘গণতন্ত্রের ইতিহাসে কালো দিবস’ বলে মন্তব্য করেছেন মমতা। তিনি বলেন, রাজ্য রাজনীতিতে যা ঘটছে, তা ‘দুর্ভাগ্যজনক, অসাংবিধানিক, গণতন্ত্রবিরোধী এবং রাজনৈতিকভাবে পক্ষপাতদুষ্ট’। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকারও তীব্র সমালোচনা করেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে মহারাষ্ট্রে শিবসেনা ও এনসিপির বিভাজনের প্রসঙ্গ টেনে মমতা বলেন, ‘আমাদের আগে উদ্ধব ঠাকরের দলের প্রতীক কেড়ে নিয়েছে। এনসিপিকে ভেঙেছে। এবার আমাদের।’

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের নাম না নিয়ে তাঁরও সমালোচনা করেন মমতা। তাঁর অভিযোগ, কমিশন বিজেপির হয়ে কাজ করছে এবং ‘ভুয়া এসআইআর, ভুয়া ভোট’ করেছে।

বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মমতা। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূলের কাউন্টিং এজেন্টদের গণনাকেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল। তিনি বলেন, পুরো প্রক্রিয়াই ‘হাইজ্যাক’ করা হয়েছে। ইভিএম নিয়েও অভিযোগ তুলে মমতা বলেন, এর পর মধ্যরাতে কমিশন ‘গণতন্ত্র হত্যা’ করেছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত