প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় ইউক্রেনের সঙ্গে অর্থবহ শান্তি আলোচনায় যাওয়ার পরিবর্তে রাশিয়া যুদ্ধ আরও তীব্র করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে মনে করছেন পশ্চিমা গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। তাদের আশঙ্কা, রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন যুদ্ধের জন্য নতুন করে সেনা নিয়োগের পাশাপাশি ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ‘হাইব্রিড’ হামলা বাড়াতে পারেন। তাদের মূল্যায়নে বলা হয়েছে, এই সপ্তাহান্তে রাশিয়ার পার্লামেন্ট নির্বাচনের পর দেশটি একটি ‘গোপন বা নীরব সেনা সমাবেশ’ শুরু করার ভিত্তি তৈরি করছে। এই নির্বাচনের পর হাজার হাজার রুশ নাগরিককে সেনাবাহিনীতে নিয়োগ করা হতে পারে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিও এর আগে দাবি করেছিলেন, সেপ্টেম্বরের নির্বাচনের পর রাশিয়া আরও ৩ লাখ সেনা নিয়োগের পরিকল্পনা করছে। তবে রাশিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে এমন কোনো নতুন গণনিয়োগের পরিকল্পনা ঘোষণা করেনি।
পশ্চিমা একটি দেশের এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফকে বলেন, ‘আমরা যা দেখছি তা হলো এমন প্রশাসনিক প্রস্তুতি, যার মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা সম্ভব।’ গোয়েন্দা সূত্রগুলো বলছে, পুতিন এখন এমন এক পরিস্থিতিতে পড়েছেন, যেখান থেকে বের হওয়ার পথ সংকুচিত হয়ে এসেছে। সূত্রগুলোর দাবিইউক্রেনে রুশ বাহিনীর ১৫ লাখ সদস্য হতাহত হয়েছেন, যার মধ্যে ৫ লাখ নিহত হয়েছেন। পশ্চিমা কর্মকর্তাদের মূল্যায়ন বলছে, একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক সেনা নিয়োগের পরিবর্তে ধাপে ধাপে নিয়োগ বাড়ানোর চেষ্টা করছে মস্কো। গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের এই মূল্যায়ন এমন সময়ে প্রকাশ্যে এলো যখন যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপ থেকে বড়সংখ্যক সেনা প্রত্যাহারের কথা বিবেচনা করছে। ধারণা করা হচ্ছে পেন্টাগন ইউরোপ থেকে ২৫ হাজার থেকে ৪০ হাজার সেনা সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি সামরিক বিমান, জাহাজ ও অস্ত্রও মহাদেশটি থেকে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে। এতে ইউরোপের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগও বেড়েছে।
ইউক্রেন যুদ্ধের পাশাপাশি ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রাশিয়ার ‘হাইব্রিড যুদ্ধ’ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ইউরোপীয় নেতারা। হাইব্রিড যুদ্ধের মধ্যে সাইবার হামলা, ড্রোন হামলা, নাশকতা, তথ্যযুদ্ধ ও অন্যান্য গোপন তৎপরতা অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ গত শুক্রবার বলেছেন, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইউরোপ ও ফ্রান্সের বিরুদ্ধে রাশিয়ার হাইব্রিড হুমকি বেড়েছে। এর প্রেক্ষিতে ফ্রান্সের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও প্রতিরক্ষা শিল্পকে সম্ভাব্য নাশকতা থেকে রক্ষার পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্কও সম্প্রতি রাশিয়ার সম্ভাব্য হামলা নিয়ে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেছেন, গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী ইউক্রেনকে সমর্থনকারী ইউরোপীয় দেশগুলোর বিরুদ্ধে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে হামলা চালানোর পরিকল্পনা করতে পারে রাশিয়া।
তবে অনেক পশ্চিমা গোয়েন্দা কর্মকর্তা প্রশ্ন তুলেছেন, নতুন করে ৩ লাখ সেনাকে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানোর মতো প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম রাশিয়ার আছে কি না? তাদের মতে, খুব বড় পরিসরে গণমোতায়েন হওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা প্রচুর পরিমাণে গোপন সেনা সমাবেশের প্রমাণ পেয়েছি এবং চুক্তিভিত্তিক সেনা নিয়োগ বাড়ানোর জন্য অতিরিক্ত প্রচেষ্টাও চলছে।’ শুক্রবার ব্লুমবার্গ জানায়, ক্রেমলিনের ভেতরের কর্মকর্তাদের মধ্যেও বড় পরিসরে সেনা সমাবেশের সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।