জাতিসংঘের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান যুক্তরাষ্ট্রের

আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:২৮ এএম

ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা নিয়ে জাতিসংঘের যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে হোয়াইট হাউজ। জাতিসংঘের তথ্যানুসন্ধান মিশন গত বৃহস্পতিবার জানায়, ইরান যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধাপরাধ করেছেÑ এমনটা বিশ্বাস করার মতো যুক্তিসংগত প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেন, ওয়াশিংটন এ প্রতিবেদনের ফলাফলকে বিশ্বাসযোগ্য মনে করে না। ওই কর্মকর্তা বলেন, জাতিসংঘের এই কাউন্সিল যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী বক্তব্য ও ইহুদিবিদ্বেষ ছড়ায়। তারা দমনমূলক শাসনব্যবস্থাকে প্রশ্রয় দেয়। হোয়াইট হাউজও প্রতিবেদনটির বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছে বলে জানায় বার্তা সংস্থা এপি। হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র আনা কেলি বলেন, এই সংঘাতে একমাত্র ইরানের শাসকগোষ্ঠীই যুদ্ধাপরাধ করেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলে প্রতিবেদনটি জমা দেওয়া হবে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের অধীনে গঠিত একটি তথ্য অনুসন্ধানী মিশন প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে। এতে বলা হয়, যুদ্ধের প্রথম দিন ইরানে চালানো যুক্তরাষ্ট্রের দুটি বিমান হামলায় অন্তত ১৭৮ জন বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে দক্ষিণাঞ্চলীয় মিনাব শহরের শাজারেহ তাইয়েবেহ স্কুলে চালানো হামলাটি বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। ইরানি গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ওই হামলায় ১৬৮ জন নিহত হন, যাদের বেশিরভাগই শিশু। জাতিসংঘের তদন্তে বলা হয়েছে, স্কুলটি হামলার ‘অনিচ্ছাকৃত ক্ষয়ক্ষতির’ শিকার হয়নি; বরং সেটিই ছিল হামলার উদ্দেশ্যপ্রণোদিত লক্ষ্য। এ কারণে হামলাটি আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন হয়ে থাকতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে ইরানে চালানো আরেকটি বিমান হামলার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, সহজেই শনাক্ত করা যায়, এমন একটি ক্রীড়া স্থাপনা ও আবাসিক এলাকায় হামলায় ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। এ হামলায় ২২ জন বেসামরিক ব্যক্তি নিহত হন।

ইরান যুদ্ধে জড়াবে না দ. কোরিয়া

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাতে কোনো সামরিক হস্তক্ষেপে সেনা মোতায়েন করবে না দক্ষিণ কোরিয়া। গতকাল শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট লি বলেন, ‘এমন কোনো সেনা মোতায়েন করা হবে না, যার মাধ্যমে আমরা যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ব। এ বিষয় আমি খুব স্পষ্ট করে বলতে পারি। এ উদ্দেশ্যে কোনো ধরনের সামরিক সরঞ্জামও আমরা মোতায়েন করব না।’ দক্ষিণ কোরিয়ার বার্তা সংস্থা ইয়োনহাপের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। তবে লি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে নৌচলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দক্ষিণ কোরিয়া আরও বড় ভূমিকা রাখবে কি না, তা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘বাণিজ্যিক জাহাজ ও অপরিশোধিত তেল পরিবহন এবং নাগরিকদের নিরাপত্তায় অন্য দেশগুলো যেভাবে ন্যূনতম ভূমিকা রাখছে, আমাদেরও তেমন কিছু করা প্রয়োজনÑ এটি পরিষ্কার।’

সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজ প্রণালিতে সামরিক মোতায়েনের বিরুদ্ধে দক্ষিণ কোরিয়ায় বিক্ষোভ হয়েছে। একই সঙ্গে সামরিক বাহিনী মোতায়েন না করার জন্য সরকারের ওপর জনচাপও তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট সামরিক সেনা মোতায়েন না করার অবস্থান স্পষ্ট করলেন। ইরান যুদ্ধে দক্ষিণ কোরিয়ার সমর্থন যথেষ্ট নয় বলে সমালোচনা করে আসছেন ট্রাম্প। এ ছাড়া চলতি গ্রীষ্মে দুই দেশের সামরিক বাহিনীর বড় যৌথ মহড়াও কমিয়ে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে দক্ষিণ কোরিয়ায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত