রাফিনহা। লা লিগা, চ্যাম্পিয়নস লিগ বা অন্য কোনো টুর্নামেন্ট, বার্সেলোনার স্কোরলাইনে এই নামটা যেন এখন অবধারিত। আর কেনই বা হবে না, চার দিনের মধ্যে এই ব্রাজিলিয়ান তারকা যখন করে বসলেন টানা দ্বিতীয় হ্যাটট্রিক সেখানে গোল করা এখন যেন তার নিত্যদিনের অভ্যাস। তারই সবশেষ চমকের অংশ হিসেবে গতকাল রাতে রামোন সানচেজ পিজহুয়ান স্টেডিয়ামে সেভিয়ার বিপক্ষে পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত ৩-১ গোলের দারুণ এক জয় তুলে নিয়েছে কাতালানরা। সেখানে স্কোরলাইনে নাম কেবল ওই একটাই রাফিনহা।
ম্যাচের শুরুটা কাতালানদের জন্য কিছুটা কঠিন হলেও অসাধারণ নৈপুণ্য দেখিয়ে মাত্র চার দিনের মধ্যে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় হ্যাটট্রিক তুলে নিয়ে দলের জয় নিশ্চিত করেন রাফিনহা। কোচ হান্সি ফ্লিকের নতুন কৌশল অনুযায়ী ফরোয়ার্ড বা নাম্বার নাইন পজিশনে খেলার সুযোগ পেয়ে নিজেকে সম্পূর্ণ নতুন এক উচ্চতায় নিয়ে গেছেন তিনি, যা চলতি মৌসুমে বার্সাকে নিয়ে যাচ্ছে সাফল্যের চূড়ায়।
ম্যাচের শুরু থেকেই স্বাগতিক সেভিয়া আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের বেশ ভালোভাবেই কোণঠাসা করে রেখেছিল। ম্যাচের ১৮ মিনিটের মাথায় বাঁ দিক থেকে ফেলিক্স কোরেইয়ার বাড়ানো একটি ক্রস থেকে নিখুঁত হেডে বল জালে জড়িয়ে সেভিয়াকে ১-০ গোলে এগিয়ে দেন ইউসুফ ফোফানা।
গোল হজম করে কিছুটা বিপাকে পড়লেও দ্রুতই ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ায় সফরকারী বার্সেলোনা। গোল খাওয়ার মাত্র চার মিনিট পর, অর্থাৎ ২২ মিনিটের মাথায় আন্দ্রেয়াস ক্রিস্টেনসেনের বাড়ানো একটি পাস ধরে ডি-বক্সে ঢুকে পড়েন রাফিনহা। এরপর দারুণ ঠান্ডা মাথায় প্রতিপক্ষের গোলরক্ষক ওডিসিয়াস ভ্লাখোদিমোসকে ফাঁকি দিয়ে নিখুঁত শটে দলকে ১-১ সমতায় ফেরান এই ব্রাজিলিয়ান তারকা। প্রথমার্ধের বাকি সময় সেভিয়া রক্ষণ জমাট রেখে বার্সাকে আটকে রাখার চেষ্টা করে এবং উল্টো কাউন্টার অ্যাটাকে গোলের সুযোগ তৈরি করলেও তা কাজে লাগাতে পারেনি।
বিরতির পর ম্যাচের ৫২ মিনিটে নিজেদের কার্যকারিতার ফের প্রমাণ দিয়ে বার্সাকে এগিয়ে নেন রাফিনহা। ডি-বক্সের ভেতরে তরুণ সেনসেশন লামিন ইয়ামাল দুর্দান্ত পায়ের কাজ দেখিয়ে দারুণ এক ক্রস বাড়ান, আর সেই বল হেডে সরাসরি জালে জড়িয়ে দেন রাফিনহা। এরপর ম্যাচের ৬৯ মিনিটে নিজের ও দলের জয়কে নিশ্চিত করেন এই ফরোয়ার্ড। মাঝমাঠ থেকে ফের ইয়ামালের বাড়ানো আরও একটি অসাধারণ পাস ধরে সেভিয়ার অফসাইড ফাঁদ ভেদ করে বল নিয়ে বক্সে ঢুকে পড়েন রাফিনহা। এরপর অত্যন্ত দক্ষ ও পরিপাটি চিপ শটে গোলরক্ষকের ওপর দিয়ে বল জালে জড়িয়ে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন তিনি। এই হ্যাটট্রিকের সুবাদে চলতি লা লিগায় এটি তার ১২তম এবং সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১৪তম গোল পূর্ণ হলো।
রাফিনহার এমন পারফর্মে মুগ্ধ প্রতিপক্ষ কোচো। তার এমন অবিশ্বাস্য ফর্মের পরও ব্যালন ডি'অরের ৩০ জনের সংক্ষিপ্ত তালিকায় তার নাম না থাকা নিয়ে ম্যাচ শেষে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সেভিয়া কোচ লুইস গার্সিয়া। ম্যাচ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে গার্সিয়া বলেন, ‘রাফিনহা যে ব্যালন ডি'অর মনোনীতদের তালিকায় নেই, এটা একটা রসিকতা ছাড়া কিছু নয়। সে একজন ম্যাচ উইনার, সে সবকিছু করতে পারে।’
অন্যদিকে, রাফিনহার এই দুর্দান্ত পুনরুত্থান এবং নতুন চুক্তি নিয়ে বেশ সন্তুষ্ট ক্লাব ম্যানেজমেন্ট। বার্সেলোনা কোচ হান্সি ফ্লিক ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনে রাফিনহার নেতৃত্বগুণ ও দলের প্রতি নিবেদন নিয়ে কথা বলেন। বার্সা কোচ সন্তুষ্টি প্রকাশ করে বলেন, ‘যখন আপনি দেখবেন সে কীভাবে ভক্ত এবং দলের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে... সে একজন নেতা। এই মৌসুমে সে অসাধারণ খেলছে।’
এই জয়ে লা লিগায় টানা সাতটি এবং সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা আটটি ম্যাচ জয়ের ধারা বজায় রাখল বার্সেলোনা। সঙ্গে রিয়াল মাদ্রিদ থেকে ৬ পয়েন্টে এগিয়ে থেকে টেবিলের শীর্ষস্থান আরও মজবুত করল কাতালানরা। আন্তর্জাতিক বিরতি ও মাঠের লড়াইয়ের বিরতি শেষে বার্সেলোনা তাদের পরবর্তী ম্যাচে আগামী ১০ অক্টোবর গেতাফের মুখোমুখি হবে।
ভুলে ভরা জার্সিতে নাগোয়ায় বাংলাদেশের শাটলারদের শঙ্কা