ছাত্রাবাসে ভাত চুরি করে খাওয়ার অপবাদে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) খাজা হলে বিপরীতে ইসলামনগর সড়কের একটি চারতলা মেসে নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. আজমুল হোসেনকে (২৩) পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে শিক্ষার্থী আজমুল হোসেনের বাবা কুতুবউদ্দিন বাদী হয়ে হরিণটানা থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ শিক্ষার্থীকে এজহারভুক্ত আসামি করা হয়েছে। পাশাপাশি আরও ২০-২৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। এই ঘটনায় ৩ বিষয়ের উপর গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত নেমেছে পুলিশ। এই ঘটনায় পুলিশ এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।
হরিণটানা থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) মো. ইকবাল হোসেন বলেন, নিহত নাজমুলের বাবা কুতুবুদ্দিনের এজাহারের ভিত্তিতে শনিবার রাতে দণ্ডবিধির ৩০২ ও ৩৪ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে হরিণটানা থানার এস আই মো. আজমুল হককে। আসামিদের ধরার জন্য তৎপরতা শুরু হয়েছে।
মো. ইকবাল হোসেন বলেন, আজমুলকে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে কিনা, তাকে শারীরিক নির্যাতনের পর ছাদ থেকে ফেলে দিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে কিনা এবং সে নিজেই ছাদ থেকে লাফ দিয়ে পড়ে মারা গেছে কিনা এই ৩টি বিষয়ের উপর গুরুত্ব কাজ করা হচ্ছে। এই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং স্থানীয়রা আমাদেরকে যথেষ্ট সহযোগিতা করছে।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের খানজাহান আলী হলের (খাজা হল) বিপরীত পাশে ইসলামনগর সড়কের মসজিদ গলির একটি মেসে চুরির অভিযোগ তুলে আজমুলকে চারতলার ছাদে নিয়ে মারধর করা হয়। এক পর্যায়ে ছাদ থেকে পড়ে যান তিনি। সেখান থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন তার মৃত্যু হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাতে আজমুল মেসে মিল না দিয়ে অন্যের খাবার খেয়ে ফেলেন। এই ঘটনায় চুরির অভিযোগ তুলে মেসে তার সাথে থাকা শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় কয়েকজন ছাদে নিয়ে তাকে মারধর করেন। তার মাথার চুল কেটে দেওয়া হয়। পরে ভবনের নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন তিনি। রাত দেড়টার দিকে কয়েকজন যুবক আজমুলকে গুরুতর আহত অবস্থায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় কয়েকজন ছাত্র রাত দেড়টার দিকে আজমুল নামের একজনকে হাসপাতালে নিয়ে আসে। সে ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়েছে বলে তারা জানায়। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় কিছু সময় পর তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর খবর পেয়ে তার সাথে থাকা শিক্ষার্থীরা দ্রুত স্থান ত্যাগ করে। প্রাথমিকভাবে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের আশঙ্কার কথা জানানো হলেও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
নিহত আজমুল হোসেন নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার বাড়ি চুয়াডাঙ্গার দর্শনা থানার শলুয়া গ্রামে।
আজমুলের পরিবারের সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাতে তার পরিবারের কাছে ফোন করে এক লাখ টাকা দাবি করা হয়েছিল। পরিবারের টাকা দিতে রাজি হয়েছিল। পরে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। সকালে এসে সজনরা আজমুলের লাশ দেখতে পান।