ইরানের স্কুলে মার্কিন হামলার পেছনে পুরনো গোয়েন্দা তথ্য ও এআই এর ভুল: ব্লুমবার্গ

আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৫৩ পিএম

ইরানের মিনাব শহরের একটি স্কুলে মার্কিন হামলার পেছনে ত্রুটিপূর্ণ গোয়েন্দা তথ্য, পুরোনো স্যাটেলাইট ছবি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা ভূমিকা রেখেছিল বলে জানিয়েছে পেন্টাগনের তদন্ত। শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। খবর আনাদোলু এজেন্সির। 

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে অভ্যন্তরীণ তদন্তের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মিনাবের শাজারাহ তাইয়্যেবেহ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুটি টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এতে ১৫০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন, যাদের মধ্যে ১২৩ জন শিশু ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পেন্টাগনের কিছু কর্মকর্তা জানতে পারেন, হামলাটি যুক্তরাষ্ট্রই চালিয়েছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, ওই সময় মার্কিন প্রশাসন ব্যাপক আকারে বিমান হামলার নির্দেশ দিয়েছিল। প্রথম ২৪ ঘণ্টায় এক হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়। ফলে লক্ষ্যবস্তু চূড়ান্ত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের হাতে সময় কমে যায়।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষায় নিয়োজিত কর্মী কমিয়ে দেওয়া এবং হামলার স্থানের বিষয়ে অসম্পূর্ণ তথ্যও ভুল সিদ্ধান্তে ভূমিকা রাখে। স্কুলটি আগে একটি সামরিক স্থাপনার অংশ ছিল। পরে দেয়াল দিয়ে সেটি আলাদা করা হয় এবং সেখানে প্রকাশ্যে স্কুল কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছিল।

কর্মকর্তাদের দাবি, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের কিছু সদস্য পালান্টিরের ‘ম্যাভেন স্মার্ট সিস্টেম’-এর ওপর অতিরিক্ত নির্ভর করেছিলেন। তাদের প্রত্যাশা ছিল, সফটওয়্যারটি পুরোনো বা পরস্পরবিরোধী গোয়েন্দা তথ্য শনাক্ত করে দেবে।

তবে পালান্টির বলেছে, ব্যবহৃত তথ্যের মূল উৎস বা গোয়েন্দা তথ্যের ঘাটতি শনাক্ত করার দায়িত্ব তাদের নয়। কোম্পানিটির দাবি, তাদের সফটওয়্যারের কারণে ওই হামলা হয়েছে—এমন কোনো প্রমাণ নেই।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলার পর পালান্টির এমন নতুন কিছু টুল তৈরি করে, যেগুলোর মাধ্যমে মূল গোয়েন্দা তথ্য পুনরায় পর্যালোচনা করে কোনো লক্ষ্যবস্তুতে হামলা না করার কারণ হতে পারে—এমন তথ্য শনাক্ত করা এবং মানব পর্যালোচনায় বাদ পড়ে যাওয়া অসঙ্গতি ও ভুল তথ্য চিহ্নিত করার চেষ্টা করা হয়।

এদিকে বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ-সমর্থিত একটি তথ্য অনুসন্ধান মিশন জানিয়েছে, ফেব্রুয়ারিতে ইরানে চালানো দুটি মার্কিন বিমান হামলার ক্ষেত্রে যুদ্ধাপরাধ সংঘটিত হওয়ার ‘যুক্তিসংগত ভিত্তি’ রয়েছে। এর মধ্যে মিনাবের ওই স্কুলে হামলাটিও রয়েছে। মিশনের হিসাবে, হামলায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ১৭৮ জন বেসামরিক মানুষ নিহত হন।

 

 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত