অপ্রতিম হত্যায় ১২ ঘণ্টায় মূল আসামিদের গ্রেপ্তার, তুহিনের দায় স্বীকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

পুলিশ জানায় আটককৃত মূল আসামিরা হলেন—সানন্দা এলাকার নুরুল আলমের ছেলে তুহিন এবং তার দুই সহযোগী আনাস ও ফাহিম আহমেদ। এরমধ্যে তুহিনের বাসা থেকে নিহত অপ্রতিমের মা’র আইফোন উদ্ধার করা হয়। 

আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:১৯ পিএম

কুমিল্লার শিশু ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যার দ্রুত বিচারে পুলিশ সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার ১২ ঘণ্টার মধ্যেই মূল আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আলামত জব্দ করা হয়েছে। প্রধান আসামি তুহিন ইতিমধ্যেই হত্যার দায় স্বীকার করেছে। রামিশা হত্যার মতো কুমিল্লার অপ্রতিম হত্যার বিচারের জন্য সহযোগিতা করবে পুলিশ।

তিনি বলেন, ‘নিহত অপ্রতিমের সঙ্গে কিশোর অপরাধ চক্রের সদস্যদের চলাফেরা ও ওঠাবসা ছিলো। তারা অপ্রতিমের চেয়ে ৫ থেকে ১০ বছরের বড়। প্রধান আসামি তুহিনের কাছ থেকে অপ্রতিমের আইফোন উদ্ধার করা হয়েছে।’ তুহিন হত্যার দায় স্বীকার করেছে বলেও জানান তিনি।

এর আগে অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) তিন তরুণকে আটক করে পুলিশ। এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে এক তরুণকে আটক করার পর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও দুজনকে হেফাজতে নেওয়া হয়। এ দিন সন্ধ্যায় বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন জেলা সদর দক্ষিণ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোস্তাইন বিল্লাহ ফেরদৌস।

পুলিশ জানায় আটককৃত মূল আসামিরা হলেন—সানন্দা এলাকার নুরুল আলমের ছেলে তুহিন এবং তার দুই সহযোগী আনাস ও ফাহিম আহমেদ। এরমধ্যে তুহিনের বাসা থেকে নিহত অপ্রতিমের মা’র আইফোন উদ্ধার করা হয়। 

মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হয়েছিল ১৩ বছরের ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম। এরপর আর বাড়ি ফেরেনি সে। নিখোঁজের এক দিন পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) দক্ষিণে লালমাই পাহাড়ের গভীরে মিলেছে তার লাশ। এ ঘটনায় তুহিন, আনাস ও ফাহিম নামের তিন তরুণকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সকাল সোয়া ১১টায় কুমিল্লার কোটবাড়ির গন্ধমতিতে অপ্রতিমের দাফন সম্পন্ন হয়। এর আগে সকাল কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অপ্রতিমের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় ও দাফনে শোকস্তব্ধ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয়রা অংশ নেন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত