টেনিসে দ্রুত দৌড়ানো, হঠাৎ দিক পরিবর্তন, বারবার সার্ভ ও শক্তিশালী শট খেলার কারণে শরীরের বিভিন্ন জয়েন্ট ও পেশিতে চাপ পড়ে। ফলে খেলোয়াড়দের মধ্যে টেনিস এলবো, গোড়ালি মচকে যাওয়া, কাঁধের ইনজুরি এবং হাঁটুর ব্যথার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। নিয়মিত শারীরিক কন্ডিশনিং, সঠিক সরঞ্জাম ব্যবহার এবং খেলার আগে ও পরে স্ট্রেচিং এসব আঘাতের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।
টেনিস এলবো
টেনিস এলবো বা ল্যাটারাল এপিকন্ডাইলাইটিসে কনুইয়ের বাইরের অংশে ব্যথা হয়। ফোরআর্মের পেশি ও টেন্ডনে অতিরিক্ত চাপ পড়াই এর অন্যতম কারণ। আক্রান্ত হলে বিশ্রাম, বরফ প্রয়োগ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ফোরআর্মের পেশি শক্তিশালী করার ব্যায়াম উপকারী। র্যাকেটের গ্রিপের আকার ও স্ট্রিংয়ের টানও সঠিক রাখা জরুরি।
গোড়ালি মচকে যাওয়া
দ্রুত দিক পরিবর্তন বা হঠাৎ থামার সময় গোড়ালির লিগামেন্টে টান লেগে মচকে যেতে পারে। প্রাথমিকভাবে বিশ্রাম, বরফ, প্রয়োজন অনুযায়ী কমপ্রেশন এবং পা উঁচু করে রাখা যেতে পারে। খেলার সময় যথাযথ সাপোর্টযুক্ত টেনিস জুতা ব্যবহার করা গুরুত্বপূর্ণ।
কাঁধের ইনজুরি
বারবার সার্ভ ও জোরালো শটের কারণে কাঁধের রোটেটর কাফে চাপ পড়ে ইনজুরি বা টেন্ডনের প্রদাহ হতে পারে। কাঁধ ও পিঠের পেশি শক্তিশালী করার ব্যায়াম এবং সঠিক সার্ভ টেকনিক এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। ব্যথা হলে বিশ্রাম ও বরফ প্রয়োগ করা যেতে পারে।
হাঁটুর ব্যথা
দৌড়ানো, বারবার লাফানো ও দ্রুত থামার কারণে হাঁটুর প্যাটেলার টেন্ডনে অতিরিক্ত চাপ পড়তে পারে। খেলাধুলার মাত্রা ধীরে বাড়ানো এবং কোয়াড্রিসেপস ও হ্যামস্ট্রিংয়ের পেশি শক্তিশালী করার ব্যায়াম উপকারী। ব্যথা হলে খেলায় বিরতি দিয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী বরফ প্রয়োগ করা যেতে পারে।
প্রতিরোধই গুরুত্বপূর্ণ
খেলা শুরুর আগে ১০ থেকে ১৫ মিনিট ওয়ার্ম-আপ ও স্ট্রেচিং করা উচিত। খেলার পরও হালকা স্ট্রেচিং শরীরকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে সাহায্য করে। পাশাপাশি সঠিক র্যাকেট, জুতা ও খেলার কৌশল বেছে নেওয়া জরুরি। আঘাতের পর ব্যথা বা ফোলা বাড়লে নিজে চিকিৎসা না করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।