মাদ্রিদ ডার্বিতে অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদের কাছে ২-১ গোলে হেরে যাওয়ার পর নিজের চিরচেনা ও আক্রমণাত্মক রূপেই ফিরেছেন রিয়াল মাদ্রিদের কোচ হোসে মরিনহো। ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনে এসে রেফারিং ও ভিএআর ব্যবস্থার বিরুদ্ধে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন এই পর্তুগিজ কোচ। ম্যাচ হারের পেছনে তিনি রেফারির বিতর্কিত সিদ্ধান্ত ও পক্ষপাতিত্বকে সরাসরি দায়ী করেছেন।
রবিবার মেত্রোপলিতানো স্টেডিয়ামে রোমাঞ্চকর এই ডার্বিতে ৫২ মিনিটে ডিন হুইসেন লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে বড় বিপদে পড়ে রিয়াল। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ঠিক পরপরই ৫৩ ও ৫৯ মিনিটে দুই গোল করে জয় নিশ্চিত করে স্বাগতিক অ্যাতলেতিকো। রিয়াল ম্যাচের শেষ দিকে একটি গোল শোধ করলেও হার এড়াতে পারেনি।
ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে একটি কাগজের প্রিন্ট করা ছবি হাতে নিয়ে হাজির হন মরিনহো। তার দাবি, ওই ছবিগুলোতেই ম্যাচের মূল গল্প লুকিয়ে আছে। অ্যাতলেতিকোর দুই খেলোয়াড় ক্রিস্টিয়ান “কুটি” রোমেরো এবং লি কান-ইন রিয়ালের খেলোয়াড়দের ওপর মারাত্মক ফাউল করলেও রেফারি তাদের লাল কার্ড দেননি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
রেফারি ওটিজ আরিয়াসের নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুলে মরিনহো বলেন, "ম্যাচের এক সপ্তাহ আগেই রেফারি ঠিক করা হয়েছিল, অথচ নিয়ম হলো ২৪ ঘণ্টা আগে ঘোষণা করার। ৪১ বছর বয়সী একজন রেফারি, যিনি আন্তর্জাতিক তালিকায়ও নেই—তিনি এসে এই ডার্বির চাপ সামলাতে পারেননি। বেচারা এসে কেবল নার্ভাস হয়ে পড়েছিল।"
ভিএআর প্রযুক্তির নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলে মরিনহো বলেন, গত মৌসুমের কোপা দেল রে থেকে শুরু করে বিভিন্ন ম্যাচে ভিএআর-এর ভূমিকা রিয়ালের বিপক্ষে ছিল। ভিএআর কর্মকর্তাদের অতীত ইতিহাস ভালো নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সিমেওনের কঠোর প্রতিক্রিয়া
মরিনহোর এমন বিস্ফোরক মন্তব্যের পর কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন আতলেতিকো মাদ্রিদের কোচ দিয়েগো সিমেওনে। প্রতিপক্ষ কোচের প্রতি সম্মান বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে সিমেওনে বলেন, "আমরা সবাই কোনো না কোনো সময় হারের স্বাদ পাই। কিন্তু আপনার নাম যতই মরিনহো, হান্সি ফ্লিক বা সিমেওনে হোক না কেন, সম্মান প্রদর্শনের যে সীমারেখা রয়েছে তা অতিক্রম করা উচিত নয়।"
এই হারে লা লিগার পয়েন্ট টেবিলে রিয়াল মাদ্রিদকে টপকে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে আতলেতিকো মাদ্রিদ। টেবিলের শীর্ষে থাকা বার্সেলোনার চেয়ে তারা এখন ৫ পয়েন্ট পিছিয়ে রয়েছে।
নতুনকে হারিয়ে সিপিএলে নতুন চ্যাম্পিয়ন