মুক্তাগাছা থানায় ভাঙচুরের অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে

আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৪৮ পিএম

ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা থানায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কক্ষে প্রবেশকে কেন্দ্র করে বিএনপির এক নেতার সঙ্গে পুলিশের বাগবিতণ্ডার ঘটনা ঘটেছে। পরে ওই নেতা ৪০ থেকে ৫০ জন লোক নিয়ে থানার দিকে যাওয়ার সময় থানার প্রধান ফটক ও পাশের ট্রাফিক বক্সে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে।

রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে মুক্তাগাছা থানায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত বিএনপি নেতা আরিফ রব্বানী ওরফে টুটুল মুক্তাগাছা পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক। তার বাড়ি উপজেলার ঈশ্বরগ্রাম এলাকায়।

পুলিশের ভাষ্য, রাত সাড়ে ৮টার দিকে আরিফ রব্বানী থানায় গিয়ে ওসির কক্ষে ঢুকতে চান। এ সময় দায়িত্বে থাকা কনস্টেবল মো. বকুল মিয়া তাকে জানান, ওসি ও অন্য কর্মকর্তারা জরুরি বৈঠকে আছেন। তাকে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে বলা হলে ওই পুলিশ সদস্যের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়।

পরে বিষয়টি জানতে পেরে ওসি ও অন্য কর্মকর্তারা কক্ষ থেকে বের হয়ে তাকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। এ সময় ওসির সঙ্গেও তার বাগ্‌বিতণ্ডা হয় বলে পুলিশ জানায়। 

মুক্তাগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, ঘটনার সময় যুবদল কর্মী সুমন, আদিলসহ কয়েকজন থানায় ছিলেন। তারা আরিফ রব্বানীকে বুঝিয়ে থানার বাইরে নিয়ে যান। কারও সঙ্গে ধস্তাধস্তি বা গায়ে হাত দেওয়ার ঘটনা ঘটেনি বলেও জানান তিনি। 

ওসি কামরুল ইসলাম বলেন, রাত ১০টার একটু আগে তিনি থানার বাইরে যাওয়ার সময় দেখতে পান, অনেক লোক লাঠি ও দেশি অস্ত্র নিয়ে থানার দিকে আসছেন। তাদের পেছনে আরিফ রব্বানীও ছিলেন। বিষয়টি তিনি ওয়্যারলেসে থানায় জানান।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এরপর কয়েকজন ব্যক্তি থানার প্রধান ফটকে ভাঙচুর করেন। থানার পাশের ট্রাফিক বক্সেও আঘাত করা হয়। এতে কয়েকটি জানালার কাচ ভেঙে যায় এবং কয়েকটি রড বাঁকা হয়ে যায় বলে জানান ওসি।

এ সময় আশপাশের বিএনপি ও যুবদলের কয়েকজন লোক তাদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেন। পুলিশ সদস্যরা গেটের কাছে পৌঁছালে তারা সেখান থেকে চলে যান।

ওসি জানান, এ ঘটনায় তখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। তাদের সঙ্গে পরামর্শ করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে জানতে আরিফ রব্বানীর মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

মুক্তাগাছা পৌর বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, আরিফ রব্বানী থানায় কোনো অভিযোগ দিতে গিয়েছিলেন বলে তিনি শুনেছেন। ওসির কক্ষে ঢোকার সময় দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়। পরে খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকার কিছু লোক থানায় এসেছিলেন। তবে থানায় ভাঙচুরের ঘটনা তিনি নিজে দেখেননি বলে জানান।

ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্যসচিব মো. রুকুনোজ্জামান রোকন গণমাধ্যমকে বলেন, থানায় হামলার ঘটনা কোনোভাবেই হতে পারে না। তারপরও যদি এমন কিছু ঘটে থাকে, তাহলে আমরা সাংগঠনিকভাবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেব।

ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, থানায় ওসির কক্ষে প্রবেশ করাকে কেন্দ্র করে বাগবিতণ্ডার জেরে একটি ঘটনা ঘটেছে। বিস্তারিত জানাতে ওসিকে বলা হয়েছে। প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত