প্রযুক্তির বিশ্বমঞ্চে লাল-সবুজের পতাকাকে আবারও উঁচুতে তুলে ধরলেন বাংলাদেশের তরুণ, টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের সন্তান ঈশমাম মুবীন। জাপানে আয়োজিত আন্তর্জাতিক সম্মানজনক রোবটিক্স প্রতিযোগিতা ‘ইউনিভার্সাল রোবটিক্স চ্যালেঞ্জ (ইউআরচি ) ২০২৬’-এ বিশ্বসেরা প্রযুক্তিপ্রেমীদের সাথে টেক্কা দিয়ে ৮ম স্থান অর্জন করেছেন তিনি। তার এই অসাধারণ জয়ে শুধু টাঙ্গাইলেরই নয়, পুরো দেশজুড়ে বইছে আনন্দের জোয়ার।
ঈশমাম মুবীন কালিয়াকৈর সরকারি কলেজের গণিত বিষয়ের অধ্যাপক দেওয়ান আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং ওয়ান ব্যাংকের ম্যানেজার লিলি আক্তারের দ্বিতীয় সন্তান।
গত ১৯ সেপ্টেম্বর জাপানের ওসাকা শহরের ঐতিহাসিক ‘ও-এম-এম বিল্ডিং এক্সিবিশন হল’-এ অনুষ্ঠিত হয় ইউআরচি-এর ১০ম আসর। বিশ্বের ৩৪টি দেশ থেকে আগত সেরা ১৪৫টি প্রতিদ্বন্দ্বী দলের মধ্যে নিজের তৈরি প্রযুক্তির শক্তিমত্তা ও উদ্ভাবনী দক্ষতার নিখুঁত স্বাক্ষর রাখেন ঈশমাম। কঠোর প্রতিযোগিতা পেরিয়ে তার এই শীর্ষ দশের ভেতরে জায়গা করে নেওয়া আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতারই এক জলন্ত প্রমাণ।
আর্টেক এডুকেশনাল ফাউন্ডেশন-এর উদ্যোগে আয়োজিত এবারের আসরের মূল প্রতিপাদ্য ছিল অত্যন্ত জীবনঘনিষ্ঠ— 'রোবটস টু দ্য রেসকিউ' (উদ্ধার কাজে রোবট)। আধুনিক বিশ্বের নানা প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট দুর্যোগ কাটিয়ে উঠতে তরুণ প্রজন্ম কীভাবে প্রযুক্তিকে কাজে লাগাতে পারে, সেটির প্রতিফলন দেখা গেছে এই প্রতিযোগিতায়।
ঈশমামের এই অভাবনীয় জয়ে উচ্ছ্বসিত তার পরিবার, শিক্ষক ও সহপাঠীরা। টাঙ্গাইলের মেধাবী তরুণের বিশ্বমঞ্চ কাঁপানো এই সাফল্য প্রমাণ করে, সঠিক সুযোগ ও নির্দেশনা পেলে আমাদের তরুণরা প্রযুক্তির যেকোনো চ্যালেঞ্জ জয় করতে সক্ষম।
ঈশমাম মুবীনের এই জয় কেবল একটি পুরস্কার অর্জনের গল্প নয়; এটি দেশের হাজারো স্বপ্নবাজ তরুণকে রোবটিক্স, কোডিং ও উদ্ভাবনী প্রযুক্তির দিকে এগিয়ে আসার এক দারুণ অনুপ্রেরণা।