সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে দুই মাস আগে জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কার করা হলেও তার সংসদ সদস্য পদ নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এ বিষয়ে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের আনুষ্ঠানিক চিঠির অপেক্ষায় রয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেপ্তারের পর গাজী নজরুল ইসলামের সংসদ সদস্য পদ নিয়ে বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) নির্বাচন কমিশন ভবনে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, এ বিষয়ে সংসদ থেকে এখনো কোনো চিঠি পাওয়া যায়নি। চিঠি এলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, 'জামায়াতে ইসলামী এ বিষয়ে চিঠি দিয়েছিল। কিন্তু আইন অনুযায়ী সংসদ থেকে কোনো চিঠি না এলে ইসির পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ নেই। সংসদ সচিবালয় থেকে আমাদের জানানোর বিধান রয়েছে। এখনও চিঠি আসেনি, অপেক্ষা করতে হবে।'
ইসি সচিব আরও বলেন, সংসদ নির্বাচন আয়োজন ও গেজেট প্রকাশ পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব। এরপর শপথ এবং সংসদ সদস্য পদ-সংক্রান্ত পরবর্তী বিষয়গুলোর এখতিয়ার জাতীয় সংসদের।
গত ২০ জুলাই রাতে ঢাকার মগবাজারের একটি হোটেলে মরিয়মের সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। শুরুতে জামায়াতের নেতাকর্মীরা ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি বলে দাবি করেন। পরে নজরুল ইসলাম নিজের ফেসবুক পোস্টে ওই তরুণীকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী বলে উল্লেখ করেন।
এরপর সাংগঠনিক তদন্তে তার বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে জানিয়ে ২২ জুলাই তাকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয় জামায়াতে ইসলামী। পরে দলটির পক্ষ থেকে এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দেওয়া হয়।
এর আগে ২৩ জুলাই জামায়াতের চিঠি পাওয়ার পর নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানিয়েছিলেন, কোনো রাজনৈতিক দল কাউকে বহিষ্কার করলেই তার সংসদ সদস্য পদ শূন্য হওয়ার সুযোগ নেই। তবে সংসদ সদস্য নিজে দল থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করলে বিষয়টি ভিন্ন হতে পারে। স্পিকার বা জাতীয় সংসদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক রেফারেন্স বা চিঠি পেলে আইন ও সংবিধান পর্যালোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।
এদিকে রবিবার সন্ধ্যায় সংসদ ভবনের বিপরীতে ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে রাতে সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।
এ ঘটনায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম এবং নিহত মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেন মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ।
মামলায় সোমবার গাজী নজরুল ইসলামকে চার দিনের এবং তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগমকে এক দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দেন আদালত।