রুশ পার্লামেন্ট নির্বাচনে পুতিনের দলের নিরঙ্কুশ জয়

রাশিয়ার এই নির্বাচনকে প্রত্যাখ্যান করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য ও কানাডাসহ পাঁচটি দেশ যৌথ বিবৃতিতে ইউক্রেনের দখল করা অঞ্চলগুলোতে রাশিয়ার পার্লামেন্ট নির্বাচনকে ‘প্রহসনের নির্বাচন’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। 

আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:২৭ এএম

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের দল ইউনাইটেড রাশিয়া দেশটির পার্লামেন্ট নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। প্রায় সব ভোট গণনা শেষে দেখা গেছে, দলটি ৫৮ শতাংশের বেশি ভোট পেয়েছে এবং নিম্নকক্ষ স্টেট দুমার তিন-চতুর্থাংশের বেশি আসন পেতে যাচ্ছে।

তিন দিনব্যাপী ভোটগ্রহণ রবিবার শেষ হওয়ার পর সোমবার এ ফল প্রকাশ করা হয়। ২৫ বছর ধরে রুশ রাজনীতিতে প্রভাবশালী ইউনাইটেড রাশিয়ার জন্য এটি রেকর্ড সংখ্যাগরিষ্ঠতা। ২০২২ সালে ইউক্রেনে রুশ সামরিক অভিযান শুরুর পর এটিই ছিল প্রথম পার্লামেন্ট নির্বাচন। খবর আল জাজিরা।

এ নির্বাচনে ইউক্রেনের চারটি অঞ্চল, যেগুলো রাশিয়া দখলের পর নিজেদের সঙ্গে যুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছিল, সেখানকার বাসিন্দাদেরও ভোটাধিকার দেওয়া হয়।

আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায় ৬০ শতাংশ ভোটার উপস্থিতি এবং ইউনাইটেড রাশিয়ার বড় জয়কে মস্কো ইউক্রেন যুদ্ধ অব্যাহত রাখার বিষয়ে জনসমর্থনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখার চেষ্টা করতে পারে। তবে যুদ্ধ নিয়ে রুশ জনগণের অসন্তোষও বাড়ছে বলে বিভিন্ন পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে।

রাশিয়ার কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান এলা পামফিলোভা জানান, দেশটির একমাত্র নিবন্ধিত যুদ্ধবিরোধী দল ইয়াবলোকো জাতীয় পর্যায়ে কোনো আসন পায়নি। গত মাসে রাশিয়ার সুপ্রিম কোর্ট দলটিকে ব্যালট থেকে বাদ দেওয়ার পর তারা কেবল কয়েক ডজন একক আসনের প্রার্থী দিতে পেরেছিল।

তবে পশ্চিমাঞ্চলীয় নভগোরোদ অঞ্চলের আঞ্চলিক পার্লামেন্টে আসন পেয়েছে ইয়াবলোকো। ইয়াবলোকো ও কমিউনিস্ট পার্টি অভিযোগ করেছে, তাদের অনেক নির্বাচনী পর্যবেক্ষককে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। কমিউনিস্ট পার্টি ১৩ দশমিক ৮ শতাংশ ভোট পেয়ে স্টেট দুমায় ৪০টি আসন পেয়েছে। জাতীয়তাবাদী এলডিপিআর পেয়েছে ২৫টি এবং নিউ পিপল পার্টি পেয়েছে ২০টি আসন।

এবারের নির্বাচনে ইউরোপীয় নিরাপত্তা ও সহযোগিতা সংস্থাকে (ওএসসিই) পর্যবেক্ষক পাঠানোর আমন্ত্রণ জানায়নি রাশিয়া। রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এর আগে সংস্থাটির বিরুদ্ধে ‘দ্বৈত মানদণ্ডের’ অভিযোগ তুলেছিল। তবে ওএসসিই পার্লামেন্টারি অ্যাসেম্বলির প্রেসিডেন্ট পেরে হুয়ান পন্স বলেন, পর্যবেক্ষকদের বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত রাশিয়ার সদস্য হিসেবে দেওয়া প্রতিশ্রুতির লঙ্ঘন।

‘ফলাফল কারও কাছে বিস্ময় নয়’

নির্বাচনের ফল নিয়ে অনেক রুশ নাগরিকও বিস্মিত নন। মস্কোর বাসিন্দা তাতিয়ানা বলেন, সকালে তিনি দেখেছেন ইউনাইটেড রাশিয়া এগিয়ে আছে। তাই ফলাফল তার কাছে অপ্রত্যাশিত নয়।

কোন বিষয়টি পরিবর্তন হওয়া উচিত—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ইউক্রেনের সংঘাতই সবচেয়ে জরুরি বিষয়। সম্ভব হলে শান্তিপূর্ণ উপায়ে যত দ্রুত সম্ভব এই যুদ্ধের অবসান চান তিনি।

কার্নেগি রাশিয়া ইউরেশিয়া সেন্টারের তাতিয়ানা স্তানোভায়া বলেন, পুতিন ইউনাইটেড রাশিয়ার ফলাফলকে যুদ্ধের প্রতি জনগণের সমর্থন হিসেবে ব্যাখ্যা করতে পারেন। তবে তার দাবি, যুদ্ধ বন্ধের দাবি রুশ জনগণের মধ্যে বাড়ছে।

তিনি আরও বলেন, এখন বড় প্রশ্ন হলো এরপর কী হবে। নতুন করে সেনা সমাবেশ, দমন-পীড়ন বাড়ানো, আরও কঠোর পদক্ষেপ এবং সংঘাতের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।

পশ্চিমাদের সমালোচনা

রাশিয়ার এই নির্বাচনকে প্রত্যাখ্যান করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ইইউর পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কায়া কালাস রাশিয়ার ‘তথাকথিত’ নির্বাচনকে সমালোচনা করে বলেন, ক্রেমলিন বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করেছে, ইউক্রেন যুদ্ধের বিরোধিতা করা একমাত্র নিবন্ধিত দলকে নির্বাচনের বাইরে রেখেছে এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের প্রবেশাধিকার বন্ধ করেছে।

তিনি বলেন, রাশিয়ায় গণতন্ত্রের যে আবরণ ছিল, সেটুকুই এখন অবশিষ্ট রয়েছে।

অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য ও কানাডাসহ পাঁচটি দেশ যৌথ বিবৃতিতে ইউক্রেনের দখল করা অঞ্চলগুলোতে রাশিয়ার পার্লামেন্ট নির্বাচনকে ‘প্রহসনের নির্বাচন’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। তাদের মতে, এটি ইউক্রেনের দখল করা অঞ্চলগুলোকে নিয়ন্ত্রণে রাখার বৃহত্তর ব্যবস্থারই অংশ।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত