আইপিএলে চেন্নাইয়ের ভেতরের খবর বিক্রি করে কোটিপতি! 

আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৫৬ এএম

ক্রিকেট বিশ্বের অলিন্দে দুর্নীতির কালো ছায়া যেন নতুন কিছু নয়, তবে সাবেক এক রঞ্জি ক্রিকেটারের সাম্প্রতিক বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি পুরো ক্রিকেট অঙ্গনে নিয়ে এলো ফিক্সিংয়ে ভিন্ন এক মোড়। আইপিএলের মতো বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে ভেতরের গোপন তথ্য পাচার করে মাত্র কয়েকটি ম্যাচেই কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছেন রচিত ভাটিয়া নামের ওই সাবেক ক্রিকেটার।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম 'তেহেলকা'র এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এসব তথ্য।

তদন্তে জানা গেছে, গত বছরের ডিসেম্বরে উত্তর দিল্লির ঢাকা ক্রিকেট একাডেমিতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নিজের এই অন্ধকার দুনিয়ায় জড়িয়ে পড়ার কথা স্বীকার করেন রজিত। লন্ডনে বসে থাকা জুয়াড়িদের কাছে চেন্নাই সুপার কিংসেরঅভ্যন্তরীণ গোপন তথ্য পাচার করার মাধ্যমে তিনি এই অবৈধ সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিলেন। অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এতাও উঠে এসেছে কীভাবে প্রযুক্তির অপব্যবহার করে বুকিদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন এই ক্রিকেটার।

চাঞ্চল্যকর সেসব তথ্য প্রকাশ করে সাবেক ক্রিকেটার রচিত'তেহেলকা'-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সরাসরি বলেছেন, ‘আমি স্ন্যাপচ্যাটের মাধ্যমে লন্ডনের বুকিদের চেন্নাই সুপার কিংসের ভেতরের গোপন তথ্য পাচার করে ২০২৫ সালের ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ মৌসুমে পাঁচটি ম্যাচ ফিক্সিং করেছি। আমি প্রতি ম্যাচে ৬০ লাখ রুপি করে আয় করেছি, ওই পাঁচটি ম্যাচের জন্য মোট ৩ কোটি পেয়েছি।’ 

তদন্তে কেবল আইপিএল নয়, ভারতীয় ঘরোয়া ক্রিকেটেও ফিক্সিং এবং দুর্নীতির দীর্ঘ ইতিহাস বেরিয়ে এসেছে। ২০১৮-১৯ মৌসুমের সৈয়দ মুশতাক আলী ট্রফিতেও স্পট-ফিক্সিংয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকার কথা স্বীকার করেছেন রচিত। সেবার বুকিদের থেকে টাকা নিয়ে জেনেশুনে ওয়াইড বল করার মতো ঘটনা ঘটিয়েছিলেন তিনি।

পুরোনো সেই স্মৃতির কথা উল্লেখ করে সাবেক ক্রিকেটার আরও বলেন, ‘আমি যে টুর্নামেন্টে খেলেছি, সেই ২০১৮-১৯ সৈয়দ মুশতাক আলী ট্রফির সময়ও স্পট-ফিক্সিংয়ে জড়িয়ে পড়েছিলাম। বুকিদের কাছ থেকে প্রতি বলের জন্য ৮ লাখ রুপি নিয়ে আমি জেনেশুনে দুটি ওয়াইড বল করেছিলাম, যার মোট পরিমাণ ছিল ১৬ লাখ।’ 

দুর্নীতির পরিধি কেবল মাঠেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং দল নির্বাচন প্রক্রিয়ার মতো পবিত্র জায়গায় টাকার খেলা চলেছিল বলে দাবি করেন তিনি। ২০১৮-১৯ রঞ্জি ট্রফি মৌসুমে নাগাল্যান্ড দলে নিজের জায়গা পাকা করতে বড় অঙ্কের ঘুষ দিয়েছিলেন বলে জানান এই সাবেক ক্রিকেটার। ‘তাছাড়া, ২০১৮-১৯ মৌসুমে নাগাল্যান্ড রঞ্জি ট্রফি দলে আমার নির্বাচন নিশ্চিত করতে আমি ১৫ লাখ টাকা ঘুষ দিয়েছিলাম এবং রঞ্জি অভিষেক করেছিলাম।’ 

তদন্ত ও সাক্ষাৎকারের একপর্যায়ে নিজের বর্তমান পেশা ও অনৈতিক সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত থাকার আরও ভয়ংকর সব তথ্য ফাঁস করেন ওই ২৯ বছর বয়সী সাবেক ক্রিকেটার। স্কুল ক্রিকেট ও বয়সভিত্তিক দল নির্বাচনের নামে কীভাবে ঘুষ বাণিজ্য চলছে, তা তুলে ধরে বলেন, ‘বর্তমানে আমি একজন জাতীয় নির্বাচক ও কোচ হিসেবে কাজ করছি। জাতীয় স্কুল টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ার জন্য স্থানীয় শিক্ষার্থীদের নিয়ে একটি দিল্লি স্কুল ক্রিকেট দল গঠন করি। আমি তিনটি বয়সশ্রেণী অনূর্ধ্ব-১৪, অনূর্ধ্ব-১৭ এবং অনূর্ধ্ব-১৯ পরিচালনা করি। অন্য দুই নির্বাচকের সঙ্গে আমিও দিল্লি দল নির্বাচন করি এবং একজন শিশুকে দলে নেওয়ার রেট হলো ৭ থেকে ৮ লাখ টাকার মধ্যে।’ 

এখানেই শেষ নয়, সামনে আসা ২০২৬ সালের আইপিএল এবং দিল্লি প্রিমিয়ার লিগেও নিজের অবৈধ কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন এই ব্যক্তি। 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত