ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ৩ সংবাদমাধ্যমের মামলা

আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০৭ এএম

হোয়াইট হাউজে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারির পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দেশটির তিন শীর্ষ সংবাদমাধ্যম সিএনএন, পলিটিকো ও এমএস নাও। দেশটির সংবিধানের প্রথম সংশোধনীতে দেওয়া অধিকার সুরক্ষায় তারা এই আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। গত সোমবার ওয়াশিংটন ডিসির ফেডারেল ডিস্ট্রিক্ট আদালতে মামলাটি করা হয়। চলতি সপ্তাহেই মামলাটির বিষয়ে জরুরি শুনানি হতে পারে বলেও জানিয়েছে তারা। মিথ্যা ও ভুয়া সংবাদ পরিবেশনের অভিযোগ তুলে ট্রাম্প গত শুক্রবার এই তিন সংবাদমাধ্যমকে হোয়াইট হাউজে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন। পাশাপাশি ওয়াশিংটন পোস্ট ও নিউ ইয়র্ক টাইমসসহ বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমকেও এই নিষেধাজ্ঞায় আনা হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন। ওই তিন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, গত শনিবার তাদের সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউজ ভবনে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।

সিএনএনসহ তিন সংবাদমাধ্যমের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘কোনো পূর্ব নোটিস বা আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই হোয়াইট হাউজ আমাদের সাংবাদিকদের প্রেস অ্যাক্রেডিটেশন (সাংবাদিকতার অনুমতিপত্র বা পরিচয়পত্র) বাতিল করেছে, কারণ তারা আমাদের সংবাদ পরিবেশন নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিল।’ যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান টিভি নেটওয়ার্কগুলো পরবর্তী সময়ে ঘোষণা করেছে যে, তারা হোয়াইট হাউজে ট্রাম্পের সংবাদ সংগ্রহ করা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখবে। এর ফলে ট্রাম্প যখন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউ ইয়র্ক যাবেন, তখন সেখানে তার খবরের একটি বড় ঘাটতি বা শূন্যতা তৈরি হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনী সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতায় সরকারের হস্তক্ষেপ নিষিদ্ধ করেছে। আদালতের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের বিষয়বস্তুর ভিত্তিতে সরকার কোনো গণমাধ্যমের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করতে পারে না। গণমাধ্যমগুলো ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞাকে দ্রুত ‘অসাংবিধানিক’ ঘোষণা করে তা কার্যকর করা থেকে বিরত রাখার আহ্বান জানিয়েছে। তারা বলছে, এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে না দাঁড়ালে তা সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এবং সরকারি হস্তক্ষেপমুক্ত স্বাধীন সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে জনগণের অধিকারকে হুমকির মুখে ফেলা হয়।

এদিকে, মামলার খবর প্রকাশের পর ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে তিন গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানকে ‘তৃতীয় সারির ভাঁড়’ এবং ‘বিকৃত ও দুর্নীতিগ্রস্ত সংবাদমাধ্যম’ বলে আখ্যা দেন। তার অভিযোগ, এসব গণমাধ্যম তার অর্জনকে ‘তুচ্ছ ও হেয়’ করে দেখায়। ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, ‘যেসব সংবাদমাধ্যম শুধু নেতিবাচক খবর প্রকাশ করে এবং অজ্ঞাতনামা “সূত্রের” বরাত দিয়ে মিথ্যা ও মানহানিকর প্রতিবেদন প্রকাশ করে, তাদের বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই দপ্তরে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া উচিত নয়।’ মামলার বিষয়ে হোয়াইট হাউজের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সেখানে সংবাদমাধ্যমের প্রবেশাধিকার কোনো অধিকার নয়, বরং বিশেষ সুযোগ।

হোয়াইট হাউজে সব চ্যানেলের ক্যামেরা একসঙ্গে ঢুকতে পারে না। তাই নিয়ম হলো, প্রধান পাঁচটি চ্যানেল (ফক্স নিউজ, এবিসি, সিবিএস, এনবিসি ও সিএনএন) মিলে একটি দল বা পুল তৈরি করে। একেক দিন একেক চ্যানেলের ক্যামেরাম্যান ট্রাম্পের ভিডিও ধারণ করেন এবং সেই ফুটেজ বাকি সব চ্যানেলকে দেন। ট্রাম্পের জাতিসংঘের অধিবেশনে যাওয়ার ভিডিও করার দায়িত্ব ছিল সিএনএনের ওপর। কিন্তু হোয়াইট হাউজের নিষেধাজ্ঞার কারণে তারা সেই দায়িত্ব পালন করতে পারেনি। পাঁচ নেটওয়ার্কের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সরকারের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সঠিক ও স্বাধীন তথ্য পাওয়ার অধিকার জনগণের রয়েছে। কোনো প্রশাসনই কোনো সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন পছন্দ না হওয়ার কারণে তাদের সংবাদ সংগ্রহের সুযোগ সীমিত করা উচিত নয়।’ এর আগে এ ধরনের মামলায় আদালতের রায় বাদীদের পক্ষেই গিয়েছিল। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে সিএনএন ও প্লেবয় ম্যাগাজিনেরÑ দুই সাংবাদিককে হোয়াইট হাউজ থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল। ট্রাম্পের যুক্তি ছিল, তারা তার সরকারের বিরুদ্ধে ‘ভুয়া খবর’ লিখছেন।

চালু হলো ‘ট্রাম্প টিভি’ : সংবাদমাধ্যমের ওপর নিষেধাজ্ঞার প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান টিভি চ্যানেলগুলো ট্রাম্পকে বয়কট করায় নিজস্ব চ্যানেল খুলে বসেছেন তিনি। গত সোমবার সন্ধ্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে সম্প্রচারে এসেছে তার নিজস্ব স্ট্রিমিং চ্যানেল ‘ট্রাম্প টিভি’। ২৪ ঘণ্টা ধরে সেখানে দেখা যাবে শুধু ট্রাম্পেরই নানা ভাষণ ও কর্মকাণ্ড। গতকাল মঙ্গলবার বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, চ্যানেলটি চালুর পর এতে ৩ জুলাই মাউন্ট রাশমোরে ট্রাম্পের দেওয়া একটি বক্তব্যের আর্কাইভ ভিডিও দেখানো হচ্ছিল।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত