যুদ্ধ-সংঘাত ও এআইয়ের ভয়

আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৫৭ এএম

উপসাগরীয় অঞ্চল ও ইউক্রেনের চলমান যুদ্ধ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ঝুঁকি এবং ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক সংকটের মধ্যে নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে জড়ো হচ্ছেন বিশ্বনেতারা। প্রায় ১৩০ জন রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের অংশগ্রহণে এবারের উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনটি এমন সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর গড়ে ওঠা এই আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা নানা চাপের মুখে পড়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়ন কমানো ও জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা থেকে প্রত্যাহারসহ ট্রাম্প প্রশাসনের পদক্ষেপও জাতিসংঘকে চাপে ফেলেছে। আজ মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়ে আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত একটানা চলবে অধিবেশন; একদিন বিরতির পর সমাপনী অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে ২৮ সেপ্টেম্বর। টানা দ্বিতীয় বছর সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেবেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবারের অধিবেশনে অংশ নিচ্ছেন না। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রীয় সফরে ওয়াশিংটনে ট্রাম্পের সঙ্গে তার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ওই বৈঠকে-ইরান যুদ্ধ, তাইওয়ান এবং যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সম্পর্কের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

কূটনীতিকরা জানিয়েছেন, চার বছরের বেশি সময় ধরে চলমান ইউক্রেন যুদ্ধ, উপসাগরীয় অঞ্চলের ইরান যুদ্ধ এবং সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক সংঘাত এবারের আলোচনায় গুরুত্ব পাবে। উপসাগরীয় অঞ্চলে চলা দ্বন্দ্ব সংঘাত নিরসনে আরব নেতাদের সঙ্গেও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। বিশ্বনেতাদের বক্তব্যে এসব সংঘাতের পাশাপাশি জ্বালানি ও খাদ্য সরবরাহে বাধা এবং দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতার অর্থনৈতিক প্রভাবও উঠে আসতে পারে। এবারের অধিবেশনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে উঠছে। সম্প্রতি এআই খাতের কয়েকজন নেতা প্রযুক্তিটির উন্নয়ন সমন্বিতভাবে ধীর করার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, এআই খুব শিগগির নিজেই নিজেকে উন্নত করার সক্ষমতা অর্জন করে মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস দ্রুত এগিয়ে চলা এআই প্রযুক্তির ওপর আরও শক্তিশালী আন্তর্জাতিক নজরদারির আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি এআই নিয়ে বৈশ্বিক নীতিমালা তৈরির পক্ষে। তার মতে, প্রযুক্তিটির উন্নয়নে এগিয়ে থাকা দেশগুলোর উচিত অভিন্ন নিরাপত্তা কাঠামো তৈরি করা, যাতে ভবিষ্যতে বৈশ্বিক বিপর্যয়ের ঝুঁকি এড়ানো যায়।

তবে, এআইয়ের ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অবস্থান ভিন্ন। এআই নিয়ে আলোচনা এবার শুধু সাধারণ পরিষদেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের আলোচনাতেও বিষয়টি গুরুত্ব পাবে। সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্যাম অল্টম্যান নিরাপত্তা পরিষদে এআই এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তায় এর প্রভাব নিয়ে বক্তব্য দেবেন। সেখানে এআই নিয়ে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানো এবং নিরাপত্তার মানদণ্ড তৈরির বিষয়টি গুরুত্ব পাবে।

আন্তর্জাতিক সংকট মোকাবিলায় জাতিসংঘের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের রিচার্ড গোয়ান বলেন, জাতিসংঘ এখন আর ‘মুক্তপতনে’ নেই, তবে দীর্ঘস্থায়ী সংকটে আটকে আছে। জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের ভোটাধিকার হারানো ঠেকাতে চলতি সপ্তাহে নিয়মিত বাজেটে ৭২৫ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করেছে ওয়াশিংটন। সংস্থাটির কাছে এখনও যুক্তরাষ্ট্রের এক বিলিয়ন ডলারের বেশি বকেয়া রয়েছে। একাধিক জাতিসংঘ সংস্থা থেকেও সরে গেছে ওয়াশিংটন। এতে জাতিসংঘের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ সম্পর্ক ও সম্পৃক্ততা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

বৈঠক হতে পারে ট্রাম্প-পেজেশকিয়ানের : ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে তিনি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকে বসতে পারেন। তবে এমন সম্ভাবনার কথা এলেও দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধ বা নতুন করে আলোচনা শুরুর বিষয়ে এখনো কোনো চুক্তি হয়নি। ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, এ ধরনের বৈঠকের বিষয়ে তিনি সম্ভবত আগ্রহী থাকবেন। পেজেশকিয়ান এই অধিবেশনে যোগ দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসন এরই মধ্যে ইরানের প্রেসিডেন্ট ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিসহ দেশটির একটি প্রতিনিধিদলকে সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দিয়েছে। এ কারণে সরাসরি মুখোমুখি যোগাযোগের একটি সুযোগ তৈরি হয়েছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত