বার্লিনে বাম, উত্তর-পূর্বে ডানপন্থিরা

আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৫৭ এএম

ইউরোপের রাজনীতিতে কয়েক বছর ধরেই কট্টর ডানপন্থার উত্থান ঘটছে। জার্মানিতে এই তীব্র জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সাম্প্রতিক বিকাশ ঘটেছে আলটারনেটিফে ফ্যুর ডয়েচল্যান্ডের (এএফডি) হাত ধরে। জার্মানির পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য স্যাক্সনি-আনহাল্টের নির্বাচনে বৃহত্তম দল হিসেবে জয়ের পর এবার পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যে মেকলেনবুর্গভোরপোমার্নও তাদের নিয়ন্ত্রণে যাচ্ছে। তবে রাজধানী বার্লিনের রাজ্য নির্বাচনে জয় পেয়েছে বামপন্থি ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্ট পার্টি ডি লিংক। দুই প্রদেশের স্থানীয় নির্বাচনে শোচনীয়ভাবে পরাজয়ের কারণে কেন্দ্রের ক্ষমতায় থাকা দল ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নের (সিডিইউ) নেতা ও দেশটির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎসের ভবিষ্যৎ এখন প্রশ্নবিদ্ধ।

অ্যাডলফ হিটলারের মৃত্যুর ৮১ বছর পর জার্মানিতে প্রথম কোনো উগ্র জাতীয়তাবাদী দল ক্ষমতার স্বাদ পেতে যাচ্ছে। দলটি ইতিহাস গড়ে মেকলেনবুর্গ-ভেস্টার্ম পমেরানিয়া রাজ্যে জয়ী হয়েছে। জাতীয় পর্যায়ের জনমত জরিপেও এএফডি এগিয়ে রয়েছে। বিশ্লেষকদের অনেকের মতে, এই মুহূর্তে জাতীয় নির্বাচন হলে এএফডি নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করতে পারে। বুথফেরত ফলাফল অনুযায়ী, রাজ্যটিতে এএফডি ৩৭ শতাংশ ভোট পেতে যাচ্ছে। তাদের ঠিক পেছনে রয়েছে মধ্য-বামপন্থি দল সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এসপিডি), যারা ৩৬ শতাংশ ভোট পেতে পারে। রাজ্যটিতে ভোটার ছিলেন প্রায় ১৩ লাখ। এ রাজ্যে নিজের দল সিডিইউর নির্বাচনী ফলকে ‘বিপর্যয়’ বলে মন্তব্য করেছেন জার্মান চ্যান্সেলর মের্ৎস। নির্বাচনে সিডিইউ ৫ শতাংশের ভোটসীমা পার করতে পারেনি। এর ফলে রাজ্য পার্লামেন্টে দলটির প্রবেশের কোনো সম্ভাবনাই নেই। এর আগে, স্যাক্সনিআনহাল্টের নির্বাচনে এএফডি ৪৩.৮ শতাংশ ভোট পেয়ে ৮৩ আসনের রাজ্য পার্লামেন্টে ৩৯টি আসনে জয়ী হয়েছিল।

১৯৯০ সালে পূর্ব ও পশ্চিম জার্মানির পুনর্মিলনের পর এবারই প্রথমবারের মতো কোনো বামপন্থি দলের সামনে বার্লিনের মেয়রের কার্যালয়ের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। জার্মানির সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এআরডির বুথফেরত ফলাফলে দেখা গেছে, ডি লিংকে ২৪.৫ শতাংশ ভোট পেতে যাচ্ছে। ক্ষমতাসীন রক্ষণশীল দল ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন (সিডিইউ) ২০ শতাংশ ভোট পাচ্ছে। আর কট্টর ডানপন্থি দল এএফডি ১৬ শতাংশ ভোট পাচ্ছে। তবে সবচেয়ে বেশি ভোট পেলেও ডি লিংকে এককভাবে সরকার গঠন করতে পারবে না। তাই দলটিকে জোটসঙ্গী খুঁজতে হবে। ঐতিহ্যগতভাবে এ রাজ্য বামপন্থিদের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত।

সাম্প্রতিক এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, ক্ষমতায় আসার মাত্র ১৬ মাসের মধ্যে মের্ৎসের জনপ্রিয়তা কমে প্রায় ১৪ শতাংশে নেমে এসেছে। মধ্য-বামপন্থি এসপিডির সঙ্গে মিলে তিনি সরকার পরিচালনা করছেন। কিন্তু অর্থনৈতিক ও সামাজিক কল্যাণমূলক সংস্কার বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণে হিমশিম খাচ্ছেন মের্ৎস। এতে তার নেতৃত্ব নিয়ে নিজ দলের ভেতরেও প্রশ্ন উঠেছে। তবে নির্বাচনী ব্যর্থতা ও ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক চাপের মধ্যেও ক্ষমতায় থাকার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। বার্লিনে সিডিইউর সদর দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মের্ৎস জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে দৃঢ়তা, অবিচল অবস্থান ও ধৈর্যের প্রয়োজন। নির্বাচনী ব্যর্থতার পরও চ্যান্সেলর পদ না ছেড়ে জোট সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী অর্থনীতি, কর ও কল্যাণব্যবস্থায় সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার কথা জানান তিনি। মের্ৎস বলেন, ‘সংস্কার অবশ্যই করতে হবে। দেশকে এগিয়ে নিতে আমি এই দায়িত্ব নিয়েছি।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত