শামুক প্রচন্ড ধীরগতির স্থলচর প্রাণী। সাধারণত তারা স্যাঁতসেঁতে, ছায়াযুক্ত জায়গায় বাস করে। তাদের শরীর শক্ত খোলসে আবৃত। এই খোলস শামুকের শরীর রক্ষা করে এবং আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। শামুকদের অদ্ভুত বৈশিষ্ট্য হলো, দীর্ঘ সময় ঘুমানো। এদের কোনো কোনো প্রজাতি একটানা ৩ বছর পর্যন্ত ঘুমিয়ে থাকতে পারে। এই ঘুমকে জীববিদ্যার ভাষায় বলা হয় ‘হাইবারনেশন’, বাংলায় ‘শীতনিদ্রা’। এ কৌশলে সাধারণত শীতে বা বৈরী আবহাওয়া পরিস্থিতিতে শরীরে জমা চর্বি ও পুষ্টির ওপর নির্ভর করে বেঁচে থাকে তারা। অতিরিক্ত গরম, খরা বা শীতের প্রকোপ এবং খাদ্যাভাব থেকে বাঁচতে শামুক এই পথ বেছে নেয়। দীর্ঘ ঘুমের সময় শামুক খোলসের ভেতর ঢুকে পড়ে এবং শরীর থেকে বের হওয়া আঠালো মিউকাস বা শ্লেষ্মা দিয়ে খোলসের মুখ শক্ত করে আটকে দেয়। এই ঢাকনাটি শরীরের আর্দ্রতা ও জলীয় অংশ ধরে রাখে। তাদের খোলের মধ্যে এমন একটি জেল নির্গত হয়, যা ভেতরের ঠান্ডাভাবকে বাইরে যেতে দেয় না। এভাবে তারা তাদের বেঁচে থাকা নিশ্চিত করে। টানা ৩ বছর না খেয়ে ঘুমই তাদের একমাত্র বাঁচার উপায় নয়। গরমেও বেঁচে থাকার জন্য অনেক সময় তারা সকালে টানা ঘুম এবং রাত জেগে থাকে। তখন তারা খাবার সংগ্রহ করে। সকালে যেহেতু অসহ্য গরম, সেই সময় ঘুমিয়ে কাটায়। শুধু শামুক নয়, প্রাণিজগতে অনেক প্রজাতি রয়েছে যারা বিরূপ পরিবেশে শীতনিদ্রায় দীর্ঘ সময় কাটায়।
শামুকের শীতনিদ্রা তিন বছর
প্রকাশ : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৫৬ পিএম
আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৫৬ পিএম
শামুকের শীতনিদ্রা তিন বছর
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
- ১
- ২
- ৩
- ৪
- ৫
- ৬
- ৭
- ৮
- ৯
- ১০
- ১
- ২
- ৩
- ৪
- ৫
- ৬
- ৭
- ৮
- ৯
- ১০