তরুণ নির্মাতাদের বিশ্বমঞ্চে যাওয়ার পথ

থেসালোনিকি উৎসব

আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৩২ এএম

কান, ভেনিস বা বার্লিনের নাম বিশ্ব চলচ্চিত্রের আলোচনায় নিয়মিত শোনা গেলেও শিল্পবোদ্ধা, স্বাধীন প্রযোজক ও নতুন নির্মাতারা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে উচ্চারণ করেন গ্রিসের থেসালোনিকি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের নাম। এই প্ল্যাটফর্মের মূল আকর্ষণ তারকাখ্যাতি নয়, বরং প্রথাভাঙা নতুন প্রতিভার সন্ধান। প্রখ্যাত পরিচালকদের চেয়ে নতুনদের প্রথম বা দ্বিতীয় কাজকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিত করার কাজটিকে উৎসবটি বড় অর্জন মনে করে। এ কারণেই একে বলা হয় ইউরোপে তরুণদের প্রধান প্রবেশদ্বার।

আসন্ন ৬৭তম আসর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ৫ থেকে ১৫ নভেম্বর। গ্রিসের থেসালোনিকি শহরে বসতে যাওয়া এই উৎসবে বৈশ্বিক জলবায়ু সংকট, যুদ্ধ, অভিবাসন, মানবাধিকার এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো সমসাময়িক সামাজিক ইস্যুনির্ভর শতাধিক সিনেমা দেখা যাবে। বিশ্বের ৭০ থেকে ৭৫টি দেশের কাজ নিয়ে হাজার হাজার দর্শক, সমালোচক, পরিবেশক ও বিনিয়োগকারীর মিলনমেলা বসে এই আয়োজনে। বিশাল বাজেট, জাঁকজমকের চেয়ে মৌলিক গল্প ও শিল্পমানের বস্তুনিষ্ঠ প্রকাশই এখানে মূল যোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হয়।

ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ১৯৬০ সালে কেবল গ্রিক চলচ্চিত্রের জাতীয় প্ল্যাটফর্ম হিসেবে এর যাত্রা শুরু হয়েছিল। পরবর্তীতে ১৯৯২ সালে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার রূপ নিয়ে এটি স্বাধীন সিনেমা ও নতুন নির্মাতাদের উন্মুক্ত মঞ্চ তৈরি করে। এই উৎসবের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ‘গোল্ডেন আলেকজান্ডার’ সম্মাননা। তরুণ পরিচালকদের জীবনে এই ট্রফি শুধু একটি পুরস্কার নয়, আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা তৈরি ও পরবর্তী ক্যারিয়ার সুগম করার মূল চাবিকাঠি।

থেসালোনিকি শুধুই সিনেমা দেখার আসর নয়, এতে যুক্ত আছে ‘আগোরা’ নামের একটি গতিশীল বাণিজ্য শাখা। এখানে বিভিন্ন দেশের প্রযোজক, স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম প্রতিনিধি ও আন্তর্জাতিক পরিবেশকদের সাক্ষাৎ ঘটে। ফলে অর্থসংস্থান, সম্পাদনাকাজে সহায়তা, বৈশ্বিক পরিবেশনার মতো বাণিজ্যিক সুযোগগুলো খুব সহজেই উন্মুক্ত হয়। মাস্টারক্লাস, কর্মশালা এবং পিচিং সেশনের সুবাদে এটিকে চলচ্চিত্র উৎসবের বিশ্ববিদ্যালয় বললেও ভুল হবে না।

আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের সীমাবদ্ধতা দূর করে বৈশ্বিক অঙ্গনে বাংলাদেশের উদীয়মান নির্মাতাদের জায়গা করে নিতে থেসালোনিকি উৎসব এক অসামান্য উদাহরণ। ভালো গল্প ও আন্তর্জাতিক মানের উপস্থাপন নিশ্চিত করা গেলে স্বল্প বাজেটের স্বাধীন কাজ নিয়েও বৈশ্বিক স্তরে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব, যা বাংলাদেশি চলচ্চিত্রের ভবিষ্যৎ ভাবনায় নতুন দিকনির্দেশনা দেয়।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত