বোলার খুঁজছিলেন বলটা শেষ পর্যন্ত গেল কই!

আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:১৭ পিএম
অ্যাডিলেডের কারেন রোলটন ওভালে রানের জোয়ার বইছিল। অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া ওয়ানডে কাপে তাসমানিয়ার বোলারদের রীতিমতো ক্লাব পর্যায়ে নামিয়ে এনে পিটাচ্ছিলেন দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটাররা। ১২০ রানে প্রথম উইকেট পড়ার পর ক্রিজে নামেন জেক ওয়েদারাল্ড। নেমেই হাত খুলে খেলা শুরু করেছেন, ঠিক তখনই ঘটল হাস্যকর ও অদ্ভুত এক ঘটনা।

১৫তম ওভারে বল হাতে এলেন তাসমানিয়ার তরুণ অফ-স্পিনার রাফ ম্যাকমিলান। ওভারের মাঝপথে তিনি হয়তো একটু বেশিই এক্সপেরিমেন্ট করতে চেয়েছিলেন, কিংবা হাত থেকে বলটা কেবল ফস্কেই গিয়েছিল! বল সোজা আকাশে উঠে পিচের সীমানা ছাড়িয়ে চলে গেল লেগ-সাইডের অনেক দূরে। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছিল যে, বল করার পর ম্যাকমিলান নিজেও মাথা ঘুরে খুঁজছিলেন বলটা শেষ পর্যন্ত গেল কই!

জেক ওয়েদারাল্ড মোটেও দমার পাত্র নন।  বোলার বলের দিশা হারিয়ে ফেলেছেন দেখে এক মুহূর্ত সময় নষ্ট না করে দৌড়ে পিচ ছেড়ে বেরিয়ে গেলেন। লেগ-সাইডে গিয়ে বলটাকে ধাওয়া করে ডিপ মিড-উইকেটের ওপর দিয়ে সজোরে চার হাঁকালেন! মাঠে তখন দর্শকদের হাসির রোল।

 

 
কিন্তু মজার গল্পের আসল নাটকীয়তা শুরু হলো ঠিক এর পর। অন-ফিল্ড আম্পায়ার জেরার্ড অ্যাবুড দুই হাত ছড়িয়ে অদ্ভুত এক সংকেত দিলেন। তিনি একাধারে সংকেত দিলেন ‘নো-বল’ এবং ‘ডেড বল’!

নিয়ম হলো—বল পিচের বাইরে বাউন্স করলে তা নো-বল। আবার ব্যাটার শট খেলার আগেই বলের গতি থেমে গেলে তা ডেড বল। আম্পায়ার ব্যাখ্যার খাতিরে চার রান বাতিল করে দিলেন, কিন্তু নো-বলের কারণে ফ্রি-হিটের সুযোগ রেখে দিলেন। ওয়েদারাল্ড ব্যাটের বাউন্ডারি কেড়ে নেওয়ায় খানিকটা চটলেন ঠিকই, কিন্তু মেজাজ হারালেন না।

আম্পায়ারের এই জটিল সিদ্ধান্তের শোধ তিনি তুললেন একেবারে হাতেনাতে। পরের বলটাই ছিল ফ্রি-হিট। এবার আর কোনো মুনবল নয়, ম্যাকমিলানের একদম সোজা করা ডেলিভারিকে মিড-অনের ওপর দিয়ে উড়িয়ে স্টেডিয়ামের বাইরে পাঠিয়ে দিলেন ওয়েদারাল্ড! বাউন্ডারি না দেওয়ার প্রতিশোধটা তিনি নিলেন এক বিশাল ছক্কা দিয়ে।

অদ্ভুত এই ঘটনার পরও ওয়েদারাল্ড তাঁর মনোযোগ হারাননি। ৯০ বলে ৬টি চার আর ৪টি ছক্কায় ৯২ রানের এক অনবদ্য ইনিংস খেলে মাঠ ছাড়েন তিনি। আর তাঁর এই দুরন্ত ব্যাটিংয়ের ওপর ভর করেই দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া তোলে ৭ উইকেটে ৩৮৩ রানের এক পাহাড়সম স্কোর। 
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত