সর্জন পদ্ধতি অবলম্বন করে কৃষিতে সফল মিরসরাইয়ের মুসলিম উদ্দীন

আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:১৪ পিএম

মিরসরাইয়ে একই জমিতে একসঙ্গে তিন ধরনের ফসল চাষ করে সাফল্যের মুখ দেখছেন কৃষি উদ্যোক্তা মুসলিম উদ্দীন। উপজেলার কাটাছরা ইউনিয়নে ৩৩ শতক জমিতে সর্জন পদ্ধতিতে পেঁপের পাশাপাশি বারোমাসি মরিচ ও কাঠকচু চাষ করছেন তিনি। ইতোমধ্যে মরিচ ও কচু বিক্রি করে আয় করেছেন। পেঁপের ফলনও ভালো হওয়ায় চলতি মৌসুমে সব মিলিয়ে উল্লেখযোগ্য লাভের আশা করছেন এই কৃষক।

মুসলিম উদ্দীনের জমিতে ঢুকলেই চোখে পড়ে সারি সারি পেঁপে গাছ। গাছের গোড়া থেকে ডালপালা পর্যন্ত ঝুলছে পাকা ও আধাপাকা পেঁপে। পেঁপে গাছের সারির মাঝের উঁচু বেডের দুপাশে রয়েছে বারোমাসি মরিচের গাছ। আর বেডের মাঝখানে তৈরি করা নিচু নালায় চাষ করা হয়েছে কাঠকচু। ফলে একই জমির উঁচু, মাঝারি ও নিচু অংশ কাজে লাগিয়ে তিন ধরনের ফসল উৎপাদন করছেন তিনি।

কৃষক মুসলিম উদ্দীন বলেন, উপজেলা কৃষি বিভাগের সহযোগিতা নিয়ে তিনি সর্জন পদ্ধতিতে চাষাবাদ শুরু করেন। এ পদ্ধতিতে জমির নিচু অংশ মাটি দিয়ে উঁচু করে বেড তৈরি করা হয়েছে। সেই বেডে পেঁপে ও মরিচ এবং মাঝের নিচু নালায় কচু চাষ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে মরিচ ও কচু বিক্রি করে ভালো আয় হয়েছে। পেঁপের গাছেও আশানুরূপ ফলন এসেছে। সবকিছু ঠিক থাকলে শুধু পেঁপে বিক্রি করেই প্রায় পাঁচ লাখ টাকা আয় করার আশা করছেন তিনি।

মুসলিম উদ্দীন বলেন, একই জমিতে একাধিক ফসল চাষ করায় জমির কোনো অংশই অব্যবহৃত থাকছে না। একসঙ্গে কয়েকটি ফসল উৎপাদন হওয়ায় উৎপাদন খরচও তুলনামূলকভাবে কমে আসছে। এতে জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি কৃষকের আয়ও বাড়ছে। সর্জন পদ্ধতিতে ভালো ফলন পাওয়ায় তিনি এই পদ্ধতিতে আরও আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।

মিরসরাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রতাপ চন্দ্র রায় বলেন, উপজেলায় সর্জন পদ্ধতিতে চাষাবাদ সম্প্রসারণের জন্য কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে চারটি প্রদর্শনী দেওয়া হয়েছে। মুসলিম উদ্দীনের জমিটিও এর একটি। তিনি পেঁপের সঙ্গে সহফসল হিসেবে মরিচ এবং নিচু নালায় কচু চাষ করছেন। একই জমিতে একাধিক ফসলের সমন্বিত চাষের মাধ্যমে কৃষকের আয় বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, সর্জন পদ্ধতিতে সাধারণত নিচু জমিকে মাটি তুলে উঁচু বেডে পরিণত করা হয় এবং বেডের মাঝখানে রাখা হয় নিচু নালা। উঁচু বেডে বিভিন্ন সবজি ও ফলের গাছ চাষ করা যায়। অন্যদিকে নিচু নালায় কচু চাষের পাশাপাশি উপযুক্ত পরিবেশে মাছও চাষ করা সম্ভব। এতে একই জমি থেকে একাধিক ধরনের কৃষিপণ্য উৎপাদন করা যায় এবং জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত হয়।

কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, মুসলিম উদ্দীনের জমিতে সর্জন পদ্ধতির সফল প্রয়োগ স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে নতুন আগ্রহ তৈরি করছে। একই জমিতে একাধিক ফসল উৎপাদনের মাধ্যমে কম জায়গায় বেশি আয় করার এই পদ্ধতি মিরসরাইয়ের কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত