পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের ছেলে সুলাইমান খান আগামী রবিবারের পিটিআইয়ের বড় বিক্ষোভকে সামনে রেখে তার পরিবারের সদস্যদের আটকের নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি পশ্চিমা দেশগুলোর সরকারকে পাকিস্তানের নেতৃত্বে থাকা ‘স্বৈরশাসকদের’ বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান।
সুলাইমানের অভিযোগ, বিক্ষোভের আগে পরিবারের সদস্যদের আটক করে তাদের ভয় দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘কোনো কারণ না জানিয়েই গভীর রাতে নারী ও শিশুসহ আমাদের পরিবারের সদস্যদের তুলে নিয়ে যাওয়া একেবারেই লজ্জাজনক।’
ইমরানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর ইসলামাবাদমুখী বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে। দলটির নেতারা জানিয়েছেন, কর্মসূচি প্রয়োজনে কয়েক দিন ধরে চলতে পারে। তবে সরকার জানিয়েছে, মিছিলকে রাজধানীতে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। ইসলামাবাদের বিভিন্ন সড়কে কনটেইনার বসানো এবং বিপুলসংখ্যক নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
রবিবারের কর্মসূচিকে সামনে রেখে ইমরানের তিন বোনসহ কয়েকশ পিটিআই নেতা-কর্মীকে আটক করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, জনশৃঙ্খলা বজায় রাখতেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে পিটিআই ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো এসব আটকের সমালোচনা করেছে।
ইমরানের বড় ছেলে সুলাইমান তার বাবার কারাবন্দিত্বকে ‘ভয়াবহ ও বেআইনি’ বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, পরিবারের সদস্য, পিটিআই এবং ভিন্নমতাবলম্বীদের সঙ্গে কী ঘটছে, তা নিয়ে জনসচেতনতা তৈরি করাই এখন তাদের প্রধান কাজ।
এদিকে ইমরানের আরেক ছেলে কাসিম খান পিটিআই সমর্থকদের ২৭ সেপ্টেম্বর আদিয়ালা কারাগারের কাছে মিছিল বা সমাবেশ না করার আহ্বান জানিয়েছেন। তার আশঙ্কা, কারাগারের কাছে জমায়েতকে কর্তৃপক্ষ সেখানে সম্ভাব্য ‘পাল্টা’ হামলার অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করতে পারে, যা তার বাবার জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে।
এক্সে কাসিম বলেন, ‘বিক্ষোভের সময় আমার বাবার সঙ্গে কোনো দুর্ঘটনা ঘটার সুযোগ তৈরি করে দেবেন না।’
পিটিআইয়ের জ্যেষ্ঠ নেতা জুলফিকার আলী বুখারি জানিয়েছেন, দলটি ২৭ সেপ্টেম্বরের কর্মসূচি থেকে সরে আসছে না। তিনি বলেন, বিক্ষোভ এক দিনের বদলে কয়েক দিন ধরে চলতে পারে এবং দলটি সে অনুযায়ী কৌশল নির্ধারণ করছে।