সূত্রাপুরে আগুনের ঘটনায় আরও এক মৃত্যু

আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৫৯ পিএম

রাজধানীর সূত্রাপুরে পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরে আগুন দেওয়ার ঘটনায় দগ্ধ তানিয়া আক্তার (২০) মারা গেছেন। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ নিয়ে এ ঘটনায় তিনজনের মৃত্যু হলো।

তানিয়ার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বার্ন ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. সুলতান মাহমুদ। তিনি জানান, তানিয়ার শরীরের ৬০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। বর্তমানে একই ঘটনায় দগ্ধ রাজিব ১৫ শতাংশ এবং আরিফ ৮ শতাংশ দগ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সোয়া ২টার দিকে দগ্ধ সিদ্দিক ব্যাপারী (৬০) মারা যান। তার শরীরের ৩৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। এ ঘটনায় এর আগে তার ছেলে মো. ইমন (২৬) মারা যান। ফলে এখন পর্যন্ত বাবা সিদ্দিক, ছেলে ইমন ও তানিয়াসহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।

গত শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রাজধানীর সূত্রাপুরের শ্যামবাজার চমকটুলি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে সিদ্দিক ব্যাপারী, তার ছেলে ইমন, ভাতিজা রাজিব (৩৮), ভাগিনা আরিফুর রহমান ধলু (৩৫) ও ভাগ্নি তানিয়া আক্তার (২০) দগ্ধ হন।

পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে জানা যায়, শ্যামবাজার চমকটুলির ওই বাড়িটি তাদের পৈতৃক সম্পত্তি। তারা পাশাপাশি বসবাস করতেন। ইমন সৌদি আরব প্রবাসী, রাজিব ন্যাশনাল হাসপাতালে মেকানিকের কাজ করেন, আরিফুর রহমান ধলু ইলেকট্রিক মিস্ত্রি এবং তানিয়া পুরান ঢাকার উইমেন্স কলেজে অনার্সে পড়তেন।

দগ্ধ আরিফুর রহমান ধলুর স্ত্রী সোনিয়া আক্তারের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার আগের দিন বাড়ির সামনে ময়লা পানি জমে থাকা নিয়ে তানিয়ার সঙ্গে ইমনের বোন সুলতানার কথা-কাটাকাটি হয়। পরে বিষয়টি ইমনকে জানানো হলে তিনি দেশে ফিরে আসেন।

পরদিন ১৯ সেপ্টেম্বর বিকেলে পারিবারিক বিষয় নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে ইমন হুমকি দেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। পরে তিনি নিজের শরীরে পেট্রোল ঢেলে এবং অন্যদের শরীরেও পেট্রোল ছিটিয়ে আগুন ধরিয়ে দেন বলে অভিযোগ করা হয়। এতে ঘটনাস্থলে থাকা সবাই দগ্ধ হন।

পরে স্বজনরা দগ্ধ অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রথমে ইমন, পরে তার বাবা সিদ্দিক ব্যাপারী এবং সর্বশেষ তানিয়া আক্তারের মৃত্যু হলো। বর্তমানে রাজিব ও আরিফুর রহমান ধলু চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত