চতুর্থ দিনে গড়াল চুয়েটের আন্দোলন

আপডেট : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৫০ এএম

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) সদ্য সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন গড়াল চতুর্থ দিনে। নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে প্রত্যাখ্যান করে গতকাল ছুটির দিনেও ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। একই দাবিতে আগামীকাল রবিবার থেকে সর্বাত্মক পূর্ণ কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি ও অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন।

গতকাল শুক্রবার দুপুর আড়াইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির সামনে থেকে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে গিয়ে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। সমাবেশে মেকাট্রনিকস ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী অরিন্দম দে বলেন, চুয়েটের বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে না এসে নতুন উপাচার্যের অনলাইনে যোগদান আমরা মেনে নিতে পারি না। শিক্ষার্থীদের মতামত ও চলমান আন্দোলনকে উপেক্ষা করে এভাবে যোগদান কোনো সমাধান নয়। আমাদের একমাত্র দাবি, সায়েম স্যারকে পুনর্বহাল করতে হবে। পুরকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী নাফিস হাসান বলেন, আমরা এমন অনলাইন উপাচার্য ক্যাম্পাসে চাই না। আমরা সায়েম স্যারকেই আমাদের উপাচার্য হিসেবে ফেরত চাই।

শিক্ষক-কর্মকর্তাদের কর্মবিরতি ঘোষণা : একই দাবিতে পূর্ণ কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তারা। চুয়েট শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আহসানুল্লাহ দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমরা বৃহস্পতিবার রাতে সভা করেছি। শিক্ষকদের সিদ্ধান্ত হচ্ছে, অধ্যাপক সায়েমকে উপাচার্য পদে পুনর্বহালের দাবিতে সর্বাত্মক কর্মবিরতি চলবে। আমাদের কর্মসূচির সঙ্গে কর্মকর্তারাও একাত্মতা প্রকাশ করেছেন। আমরা পরবর্তী কর্মসূচি জানিয়ে দেব। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, উপাচার্যের অনলাইনে যোগদানের বিষয়টি অভূতপূর্ব ঘটনা। তার যোগদানের বিষয়টি আমরা মিডিয়ার মাধ্যমে জানতে পেরেছি। সরকারের পক্ষ থেকে আমাদের কিছু জানানো হয়নি।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমি বৃহস্পতিবার যোগদান করার পর সিনিয়র শিক্ষকরা আমার সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। বিশেষ করে ডিনদের সঙ্গেও আলোচনা হচ্ছে। একাডেমিক কার্যক্রম কীভাবে দ্রুত সচল করা যায়, সে বিষয়ে কথা হচ্ছে। শিক্ষক সমিতির কর্মসূচির বিষয়ে তিনি বলেন, আমাকে সিনিয়র শিক্ষকরা জানিয়েছেন শিক্ষক সমিতির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক নিজেদের খেয়ালখুশি মতো সভা ডেকে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। এতে কোরাম পূর্ণ হচ্ছে কি না, সেটাও বিবেচ্য বিষয়।

গত ২৭ জুলাই চুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক সায়েমকে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। কিন্তু গত সোমবার রাতে তাকে সরিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শরীফুল আলমকে উপাচার্য নিয়োগ দেওয়ার পর থেকেই ক্যাম্পাসে অসন্তোষের দাবানল ছড়িয়ে পড়ে। সেই থেকে আন্দোলন করে যাচ্ছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত