মাওনা ফ্লাইওভার

৬৪ লাইটের মাত্র ৪টিতে আলো

আপডেট : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:১১ এএম

গাজীপুরের শ্রীপুরের মাওনা চৌরাস্তার ফ্লাইওভারে বাসানো ৬৪টি সড়কবাতির মধ্যে জ¦লে মাত্র চারটি। আর বাকি ৬০টি সড়কবাতিই বিকল হয়ে পড়ে আছে অন্তত পাঁচ বছর ধরে। তবে এমন অচল হয়ে পড়ে থাকলেও দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ এটি মেরামতে চরম উদাসীন। অন্ধকারে চুরি হচ্ছে মূল্যবান জিনিপত্র। ছিনতাইসহ নানা অপরাধের শিকার হয় স্থানীয় বাসিন্দাসহ দূরদূরান্ত থেকে এসে নামা বিভিন্ন বয়সী যাত্রীরা। তাদের অভিযোগ এমন দুর্ভোগ দীর্ঘদিন ধরে চললেও কারও কোনো মাথাব্যথা নেই। আর সেই সুযোগে মাওনা এলাকা হয়ে উঠেছে অপরাধের স্বর্গরাজ্য। রাত নামলেই মানুষের মধ্যে অজানা আতঙ্ক বাসা বাঁধে। অপরাধীরা হয় সক্রিয়।

স্থানীয়রা জানান, একসময় নিত্য যানজট ছিল এ মাওনা চৌরাস্তার প্রধান দুর্ভোগ আর কষ্ট। সে কষ্ট লাঘবে তৈরি করা হয় মাওনা উড়াল সেতু বা ফ্লাইওভার। ঢাকা-ময়মনসিংহ চার লেন মহাসড়কের মাওনা এলাকার চরম ভোগান্তি সে যানজন নিরসন ঘটে। সেই ফ্লাইওভারে যানজটের ভোগান্তি কমলেও নতুন এক ভয় অন্ধকারে ভোগান্তি। রাত নামলেই ফ্লাইওভারে ঘুটঘুটে অন্ধকার নেমে আসে। সক্রিয় হয় নানা অপরাধ চক্র। তাদের দাবি ফ্লাইওভারের ৬৪টি সড়কবাতির মধ্যে মাত্র চারটি সড়কবাতি জ¦লে। ৩২ খুঁটিতে দুই পাশ করে ৬৪টি সড়ক বাতি লাগানো হয়। দীর্ঘদিন ধরে সড়কবাতিগুলো অচল অকেজো হয়ে পড়ে আছে। কেউ তা সারাতে এগিয়ে আসছেন না। ফলে এ ভয়ংকর অন্ধকার নিত্যদিনের সঙ্গী পথচারীদের। সে সুযোগে চলে ছিনতাইসহ নানা অপরাধ কর্মকা-।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৫ সালের ১১ এপ্রিল তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী দেশের প্রথম চার লেনের মাওনা ফ্লাইওভারটি উদ্বোধন করেন। ৭০ কোটি টাকারও বেশি ব্যয়ে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের অর্থায়নে এটি নির্মাণ করা হয়। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে আবদুল মোনেম লিমিটেড এর নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে। ফ্লাইওভারটির মূল অংশ ৪৫০ মিটার এবং অ্যাপ্রোচসহ মোট দৈর্ঘ্য ৯০০ মিটার, আর প্রস্থ ১৯ মিটার। এই ফ্লাইওভারটি চালুর পর মাওনা এলাকার যানজট দূর হয়েছে এবং দূরপাল্লার গাড়িগুলো দ্রুত যাতায়াত করতে পারছে। ফলে স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে।

মাওনা হাইওয়ে থানার ওসি মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, ফ্লাইওভারের বাতিগুলো নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। অল্প কয়টা জ¦লে। অধিকাংশই অচল। ফলে ফ্লাইওভারের ওপরের অংশে অন্ধকার থাকে। পুলিশ আলাদা নজর রাখে যেন কোনো প্রকার অপরাধ সংঘটিত না হতে পারে। লাইটগুলো দ্রুত মেরামত করা প্রয়োজন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত