ভুল চিকিৎসায় বিড়ালের মৃত্যুর অভিযোগ, বিএসিসি মালিকসহ দুই চিকিৎসককে লিগ্যাল নোটিশ 

আপডেট : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:২৭ পিএম

অবহেলা ও ভুল চিকিৎসায় পার্সিয়ান জাতের একটি অন্তঃসত্ত্বা বিড়ালের মৃত্যুর অভিযোগে ঢাকার গুলশানস্থ বাংলাদেশ অ্যানিমেল কেয়ার সেন্টারের (বিএসিসি) মালিকসহ প্রতিষ্ঠানটির দুজন চিকিৎসককে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। 

গত ২৪ সেপ্টেম্বর পোষা বিড়ালটির মালিক মো. আবিবুর রহমানের পক্ষে রেজিস্ট্রি ডাকযোগে নোটিশটি পাঠানো হয়েছে বলে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) নিশ্চিত করেন আইনজীবী মোহাম্মদ জাহিদুর রহমান।

যাদের লিগ্যাল নোটিশ দেওয়া হয়েছে তারা হলেন—বাংলাদেশ অ্যানিমেল কেয়ার সেন্টারের (বিএসিসি) মালিক লাবণ্য, ওই প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসক ড. সোলাইমান হোসাইন ও ড. মো. জুবায়ের। লিগ্যাল নোটিশে আগামী ৭ দিনের মধ্যে অবহেলা ও ভুল চিকিৎসায় অন্তঃসত্ত্বা বিড়ালের মৃত্যুর দায় নিয়ে মালিক লাবণ্যকে অভিযুক্ত দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলা হয়েছে। অন্যথায় নোটিশ প্রেরণকারী ৩ জনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে উল্লেখ করেন।

লিগ্যাল নোটিশের অভিযোগে বলা হয়, নোটিশদাতার বিড়ালটির জন্ম ২০২০ সালের ১ মে। জন্ম পর থেকেই অ্যানিমেল কেয়ার সেন্টারে (বিএসিসি) সেটির চিকিৎসা করানো হচ্ছে। গত ৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টায় বিড়ালটি গর্ভবতী কি না তা পরীক্ষা করানোর জন্য নোটিশদাতা সেটিকে বিএসিসিতে নিয়ে যান। সেখানে ড. সোলাইমান হোসাইন বিড়ালটি পরীক্ষা করে র‍্যাবিস ও ফ্লুর টিকা প্রয়োগ করেন এবং বলেন, ‘বিড়ালটি সন্তানসম্ভবা, যা প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। গর্ভে দুই বা ততোধিক বিড়ালছানা রয়েছে। বিড়ালের স্বাস্থ্য ভালো আছে এবং তা গর্ভধারণের উপযুক্ত। তাই রুচির ওষুধ দিলাম।’ এরপর তিনি একটি প্রেসক্রিপশন লিখে দেন।

পরে গত ১৩ সেপ্টেম্বর দুপুরে বিড়ালটির দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে দেখে নোটিশদাতা বিএসিসির হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে যোগাযোগ করেন। সেখানকার রিসেপশনিস্টের কথা অনুযায়ী জরুরি সেবার অনুরোধ জানিয়ে বিস্তারিত লিখে বার্তা পাঠান। কিন্তু সন্ধ্যা পর্যন্ত ওই প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো ধরনের যোগাযোগ না করায় ওই দিন সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে বিড়ালটির অবস্থা বোঝাতে ২টি ভিডিও এবং ১টি ভয়েস মেসেজ পাঠান। ভিডিও ও ভয়েস মেসেজে তিনি সকাল থেকে নাকে সর্দি, চোখ ভেজা, জোরে জোরে শ্বাস নেওয়া এবং খেতে না চাওয়ার পাশাপাশি নড়াচড়া করতে না পারার কথা উল্লেখ করেন। পরবর্তীতে বিড়ালটি আরও অসুস্থ হয়ে পড়লে ভিডিও ও ভয়েস মেসেজ পাঠিয়ে বিষয়টিকে গুরুত্বের সাথে নেওয়ার অনুরোধ জানান।

এরপর ড. জুবায়েরকে বিড়ালটি ভিডিও কলে দেখানো হলে তিনি পরামর্শ দেন, ‘এটা তেমন কিছু নয়, বিড়ালটি বাচ্চা দেবে। তাই এর পাশে কিছু কাপড় রেখে দিন এবং রুমটা অন্ধকার করে দিন, ও বাচ্চা দিয়ে দেবে।’ ড. জুবায়েরের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করে বিড়ালটিকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। কিন্তু অবস্থা আরও আশঙ্কাজনক হলে রাত ১০টা ৫৩ মিনিটে বিড়ালটির আরও একটি ভিডিও ও কল দিয়ে বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানানো হয়। তখন ড. জুবায়ের দ্রুত ইমারজেন্সিতে নিয়ে আসার কথা বলেন।

বিড়ালটিকে নিয়ে রাত ১১টা ৩০ মিনিটে সেখানে পৌঁছানোর পর ড. শিরোপা অক্সিজেন দিলে সেটির শ্বাস-প্রশ্বাসের কিছুটা উন্নতি হয়। এরপর তিনি বিড়ালটিকে একটি ইনজেকশন প্রয়োগ করেন। ইনজেকশন দেওয়ার কিছুক্ষণ পর বিড়ালটি শোয়া থেকে উঠে দাঁড়ায় এবং সেটিকে আরও বেশি অসুস্থ দেখায়। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই বিড়ালটি মারা যায়।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর নোটিশদাতা বিএসিসির মালিক লাবণ্যের কাছে গিয়ে মৌখিক অভিযোগ জানালে তিনি অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার কথা স্বীকার করেন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত