ভুয়া রিপোর্ট দিয়ে এভারকেয়ারে চিকিৎসার অনুমতি নেন সাবেক মন্ত্রী কামরুল

আপডেট : ০১ মে ২০২৬, ১২:১৬ পিএম

ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, পিজি হাসপাতালের পরিবর্তে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার অনুমতি চেয়ে একটি আবেদন করেছিল আসামিপক্ষ। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ৯ এপ্রিল একটি আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। তবে আদেশটি পর্যালোচনা করতে গিয়ে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে গুরুতর অসংগতি ধরা পড়ে। তিনি অভিযোগ করেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সঙ্গে ‘ফ্রড প্র্যাকটিস’ (প্রতারণামূলক কার্যক্রম) করে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবর্তে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা করানোর অনুমতি নিয়েছিলেন এই সাবেক মন্ত্রী।

ট্রাইব্যুনালের নিজ কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) এক ব্রিফিংয়ে চিফ প্রসিকিউটর এ অভিযোগ করেন।

দেড় বছর ধরে কারাবন্দি সাবেক মন্ত্রী কামরুল ইসলাম। জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি বর্তমানে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন। এর আগে তিনি আসামিপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি কামরুল ইসলামকে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসার আদেশ দিয়েছিলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১।

ব্রিফিংয়ে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, এভারকেয়ারে চিকিৎসা গ্রহণের জন্য যে আবেদন করেছিল, সেখানে যেসব কাগজপত্র দাখিল করেছিল আসামিপক্ষ, সেগুলো সন্দেহজনক মনে হয়েছে। বিশেষ করে গত ২৫ ফেব্রুয়ারির একটি কথিত মেডিকেল পেপার দেখে সন্দেহ হলো এটা কীভাবে এল। কারণ, ২০২৪ সালের ১৮ নভেম্বর থেকে আসামি হাজতে আছেন। ট্রাইব্যুনালের কোনো আদেশ নেই, অনুমতি নেই, তাহলে তিনি গত ১৫ ফেব্রুয়ারি কী করে চিকিৎসকের কাছে গেলেন?

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, একটি কাগজে ‘গ্যাসট্রিক ক্যানসার’ উল্লেখ রয়েছে, যা চিকিৎসাবিজ্ঞানে প্রচলিত কোনো নির্দিষ্ট রোগের নাম নয়। এছাড়া প্রতিবেদনটি একটি প্রত্যন্ত এলাকার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের চিকিৎসকের নামে দেওয়া। আরেকটি প্রতিবেদন আনা হয়েছে সিঙ্গাপুর থেকে। দুটি প্রতিবেদনই আবেদনের সঙ্গে জমা দিয়েছেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা।

তিনি প্রশ্ন রাখেন, রোগীকে না দেখে কিংবা তিনি ডাক্তারের কাছে না গিয়ে কি করে এই চিকিৎসাপত্র ট্রাইব্যুনালে আনলেন। কারণ দুটি কাগজই আমার কাছে এক ধরনের বানানো মনে হয়েছে। অথবা এসব কাগজের যথার্থতা নেই। কারণ ১৫ ফেব্রুয়ারির ডাক্তারি প্রতিবেদনটি কামরুল ইসলামের নির্বাচনী এলাকা কামরাঙ্গীরচরের একটি প্রত্যন্ত অঞ্চলের। সেখানকার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের এক চিকিৎসকের প্রতিবেদন।

বৃহস্পতিবার ট্রাইব্যুনালে আসামি কামরুল ইসলামের আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী বলেন, এভারকেয়ার হাসপাতালে কামরুল ইসলামের চিকিৎসার জন্য যেসব কাগজপত্র জমা দিয়েছেন, সেগুলোর বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য সময় চান তিনি।

পরে আগামী ১৭ মে এ বিষয়ে শুনানির জন্য দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত