বাংলাদেশে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান ডিসিসিআইয়ের

আপডেট : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৪৬ পিএম

বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে দেশটির ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করেছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। ২৫ ও ২৬ সেপ্টেম্বর কুয়ালালামপুরে ন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি অব মালয়েশিয়া (এনসিসিআইএম) ও ফেডারেশন অব মালয়েশিয়ান ম্যানুফ্যাকচারিং (এফএমএম)-এর সঙ্গে এসব বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

এনসিসিআইএম আয়োজিত ‘মালয়েশিয়া-বাংলাদেশ বিজনেস ফোরাম: ব্যবসায়িক সহযোগিতা সম্প্রসারণ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, ওষুধ, ইলেকট্রনিকস, তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক সেবা, পাট ও পাটজাত পণ্য এবং খাদ্যপণ্যসহ বিভিন্ন খাতের পণ্য ও সেবা আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোতে রপ্তানিতে মালয়েশিয়ার সহযোগিতা চান।

একই সঙ্গে বাংলাদেশের বড় অভ্যন্তরীণ বাজার এবং দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশে পণ্য রপ্তানির সুযোগ কাজে লাগিয়ে মালয়েশিয়ার উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানান তিনি।

এনসিসিআইএম সভাপতি নরসিয়াহরিন বিন হামদিন বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের সঙ্গে মালয়েশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়লে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পরিধি আরও বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।

তিনি বলেন, মালয়েশিয়া বাংলাদেশে প্রধানত পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য রপ্তানি করে। তবে বাংলাদেশের বড় ও ক্রমবর্ধমান মধ্যবিত্ত ভোক্তা শ্রেণির বাজারে মালয়েশিয়ায় উৎপাদিত বিভিন্ন পণ্যের চাহিদা বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্ভাবনার ওপর মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডিসিসিআইয়ের ঊর্ধ্বতন সহসভাপতি রাজীব এইচ চৌধুরী।

এর আগে ২৫ সেপ্টেম্বর এফএমএম আয়োজিত ‘স্ট্র্যাটেজিক ফোরাম: বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া বিজনেস অ্যান্ড ট্রেড অপরচুনিটিজ’ শীর্ষক সভায় এফএমএম সভাপতি জ্যাকব লি চোর কক বলেন, কয়েক দশকে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পাশাপাশি অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পৃক্ততাও বেড়েছে। বেসরকারি খাতের আরও সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি করা সম্ভব বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

মালয়েশিয়ার অর্থনীতিতে বাংলাদেশি কর্মীদের অবদানের কথাও তুলে ধরেন এফএমএম সভাপতি। তাঁর মতে, বাংলাদেশ থেকে যাওয়া দক্ষ ও পরিশ্রমী কর্মীরা মালয়েশিয়ার বিভিন্ন খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। ভবিষ্যতে এসব কর্মী দেশে ফিরে মালয়েশিয়ায় অর্জিত দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে কাজে লাগাতে পারবেন।

সভায় মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মানজুরুল করিম খান চৌধুরী, মালয়েশিয়ার মিনিস্ট্রি অব ইনভেস্টমেন্ট, ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিক কোঅপারেশন অ্যান্ড রিজিওনাল গ্রুপিংস বিভাগের সিনিয়র ডিরেক্টর ড. রাশেদি সাইদ এবং মালয়েশিয়া এক্সটার্নাল ট্রেড ডেভেলপমেন্ট করপোরেশনের (ম্যাট্রেড) পরিচালক নাইম আব্দুল রহমান বক্তব্য দেন।

দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগে সহযোগিতা বাড়াতে এফএমএম ও ডিসিসিআইয়ের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারকও স্বাক্ষরিত হয়। নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে এতে স্বাক্ষর করেন ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ ও এফএমএম সভাপতি জ্যাকব লি চোর কক।

এ ছাড়া দুই দেশের উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণে প্রায় ৭০টি বিজনেস-টু-বিজনেস (বিটুবি) ম্যাচমেকিং সভা অনুষ্ঠিত হয়। এসব বৈঠকে ব্যবসা ও বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে তথ্য ও অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন দুই দেশের উদ্যোক্তারা।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত