বাবা-ছেলের জীবনের মর্মান্তিক ‘অন্ত্যমিল’

আপডেট : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:০৪ পিএম

প্রায় ২২ বছর আগের কথা। ২০০৪ সালে পবিত্র হজ পালন করতে সৌদি আরবের মক্কায় গিয়ে মা-বাবার সঙ্গেই বাসচাপায় প্রাণ হারিয়েছিলেন বাবা ফিরোজ আহমদ। ওই সময় তার ছেলে কায়সার হামিদের বয়স ছিল মাত্র তিন বছর। বাবাকে একনজর দেখা বা আদর পাওয়ার সৌভাগ্য শিশুটির হয়নি, এমনকি তার লাশও দেশে আনা সম্ভব হয়নি।

ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস! প্রায় দুই যুগ পর সেই ছেলে একইভাবে বাসচাপার শিকার হয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন। গত বৃহস্পতিবার সকালে মোটরসাইকেলে করে চট্টগ্রাম নগরের কর্মস্থলে যাওয়ার পথে হাটহাজারীর নজুমিয়াহাট বাজার এলাকায় চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কে এবি ট্রাভেলস নামের একটি বাসের চাপায় গুরুতর আহত হন কায়সার। পরে নগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাতে তিনি মারা যান।

মাত্র ২৬ বছর বয়সি কায়সার হামিদ রাউজানের পূর্ব গুজরা ইউনিয়নের অলিমিয়াহাট বাজারের সিকদারপাড়ার বাসিন্দা ছিলেন। তিনি নগরের হাজেরা তজু বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের বিবিএ দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র থাকার পাশাপাশি একটি অ্যালুমিনিয়াম কারখানায় চাকরি করতেন। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে গ্রামের বাড়িতে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে।

স্বামীকে হারানোর পর একইভাবে একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে বারবার জ্ঞান হারাচ্ছেন মা রোজী আক্তার।

কায়সারের চাচা মোজাম্মেল হক জানান, বড় ভাইয়ের মতো তাকেও যে এভাবে হারাতে হবে, তা তারা কল্পনাও করেননি। 

এ ঘটনার বিষয়ে হাটহাজারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহিদুর রহমান জানান, কাপ্তাইমুখী একটি বাস কায়সার হামিদের মোটরসাইকেলটিকে চাপা দেয় এবং দুর্ঘটনার পর বাসটি জব্দ করা হয়েছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত