মানুষের হৃদয়ই তার জীবনের মূল চালিকাশক্তি। হৃদয় যখন নরম ও কোমল থাকে, তখন মানুষ সহজেই সত্যের পথে অগ্রসর হতে পারে। কিন্তু যখন হৃদয় কঠোর হয়ে যায়, তখন মানুষ পাপাচারে জড়িয়ে পড়ে, অন্যের কষ্টে তার মন ব্যথিত হয় না। তাই অন্তরের কোমলতা রক্ষা করার ব্যাপারে বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। অন্তর কোমল হওয়ার কয়েকটি আমল উল্লেখ করা হলো।
জিকির করা : বেশি বেশি মহান আল্লাহর জিকির মানুষের অন্তরের কঠোরতা দূর করে তাতে কোমলতা সৃষ্টি করে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘যারা মোমিন তাদের অন্তর আল্লাহর জিকির দ্বারা প্রশান্ত হয়। নিশ্চয়ই আল্লাহর স্মরণ অন্তরগুলোকে প্রশান্ত করে।’ (সুরা রাদ ২৮)
কান্না করা : মহান আল্লাহর দরবারে কান্না করলে অন্তরের কঠোরতা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। হজরত রাসুল (সা.) অন্তরের কঠোরতা থেকে আল্লাহর দরবারে মুক্তি চাইতেন। তিনি দোয়া করতেন, ‘হে আল্লাহ, নিশ্চয়ই আমি আপনার কাছে চারটি বিষয় থেকে মুক্তি চাই। এমন জ্ঞান, যা উপকারে আসে না। এমন অন্তর, যা (আপনার ভয়ে) ভীত নয়। এমন আত্মা, যা তৃপ্ত নয়। এমন দোয়া, যা কবুল করা হয় না।’ (সুনানে নাসায়ি)
আল্লাহর কাছে চাওয়া : অন্তরের কঠোরতা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য অন্যতম আমল হলো, মহান আল্লাহর সাহায্য চাওয়া। আল্লাহকে ডাকলে আল্লাহ তার বান্দার ডাকে অবশ্যই সাড়া দেন। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর তোমাদের রব বলেছেন, তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব।’ (সুরা মোমিন ৬০)
কল্যাণমূলক কাজ করা : অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ালে, এতিমের মাথায় হাত বুলিয়ে দিলে অন্তরের কঠোরতা দূর হয়। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যদি তুমি তোমার অন্তরকে নরম করতে চাও, তবে মিসকিনকে খাবার খাওয়াও এবং এতিমের মাথায় হাত বুলিয়ে দাও।’ (সহিহুল জামে)
লেখক : মাদ্রাসাশিক্ষক ও ধর্মীয় নিবন্ধকার