গণভোট ও ক্ষমতার ভারসাম্যের সুপারিশ জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের

দৈনিক দেশ রূপান্তরের সম্পাদক মুস্তাফিজ শফি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে আলোচনার নানা খুঁটিনাটি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘বিশেষ কমিটির প্রধান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ জানিয়ে দিয়েছেন, সংবিধানে বড় ধরনের পরিবর্তনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

আপডেট : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৩০ পিএম

রাষ্ট্র পরিচালনায় গুণগত পরিবর্তন এবং সংবিধানে মৌলিক সংস্কার আনার লক্ষ্যে আবারও দেশব্যাপী গণভোট আয়োজনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত বিশেষ কমিটির তৃতীয় বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। বিশেষ কমিটির নেতৃবৃন্দ স্পষ্ট করেছেন যে, বর্তমান সংবিধানে মৌলিক কোনো পরিবর্তন আনতে হলে জনগণের প্রত্যক্ষ জনমত যাচাই বা গণভোটের আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে, আর সেই সাংবিধানিক নিয়ম মেনেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনের ক্যাবিনেট কক্ষে বেলা আড়াইটা থেকে বিকেল সোয়া ৫টা পর্যন্ত প্রায় পৌনে তিন ঘণ্টাব্যাপী এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের আমন্ত্রণে দেশের বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকের সম্পাদক, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও সাংবাদিক সংগঠনের শীর্ষ নেতারা অংশ নেন। মুক্ত আলোচনার মাধ্যমে তারা নতুন সংবিধান সংশোধনের বিভিন্ন দিক, গণআকাঙ্ক্ষা এবং গণতান্ত্রিক কাঠামোর ভবিষ্যৎ রূপরেখা নিয়ে নিজস্ব মতামত উপস্থাপন করেন।

বৈঠক শেষে দৈনিক দেশ রূপান্তরের সম্পাদক মুস্তাফিজ শফি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে আলোচনার নানা খুঁটিনাটি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘বিশেষ কমিটির প্রধান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ জানিয়ে দিয়েছেন, সংবিধানে বড় ধরনের পরিবর্তনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। দেশের সংবিধান অনুযায়ী যেকোনো মৌলিক পরিবর্তনের জন্য জনগণের রায়ের প্রয়োজন হয়। যেহেতু এবারের সংশোধনীটি একটি মৌলিক সংস্কার হতে যাচ্ছে, তাই সরকার আবারও একটি ‘‘সাংবিধানিক গণভোট’’ আয়োজনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’

বিশেষ কমিটির পক্ষ থেকে বৈঠকে আশ্বাস দেওয়া হয় যে, আগামী বছরের শুরুতেই জাতীয় সংসদের নতুন বছরের প্রথম অধিবেশন বসবে। সব অংশীজনের সাথে ধারাবাহিক সংলাপের মাধ্যমে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিলটির রূপরেখা চূড়ান্ত করে সেই অধিবেশনেই সংবিধান সংশোধন বিল পাসের জোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

বৈঠকে অংশ নেওয়া প্রায় অর্ধশত জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক একসুরে জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে এই ঐতিহাসিক সংশোধনী সম্পন্ন করার ওপর জোর দেন। বিশেষ করে প্রধান বিরোধী দলকে প্রক্রিয়ার বাইরে না রেখে, সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও আস্থার সাথে তাদের কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়।

এই আহ্বানের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বিরোধী দলকে মূল আলোচনায় সম্পৃক্ত করতে সরকার সব ধরনের প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। তারা বৈঠকে অংশ না নিলেও, পরবর্তীতে সংসদে যখন এটি উত্থাপিত হবে, তখন সেখানে গঠনমূলক আলোচনা ও পাসের প্রক্রিয়ায় তারা পূর্ণ সহযোগিতা করবে বলে আশা প্রকাশ করেন কমিটির প্রধান।

গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা বিগত সরকারের স্বেচ্ছাচারিতার তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে সরকার ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার মধ্যকার বিপজ্জনক একচ্ছত্র প্রভাব কমানোর জোরালো সুপারিশ করেন।

একক ব্যক্তির হাতে অতিরিক্ত ক্ষমতা কেন্দ্রীকরণের ফলে অতীতে দেশে যে ফ্যাসিবাদের উত্থান ঘটেছে, তা রোধে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার সুষম বন্টন ও ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করা অত্যন্ত জরুরি বলে অভিমত দেন সম্পাদকরা।

এর পাশাপাশি, সরকারি চাকরিতে নিয়োগ ব্যবস্থার বিদ্যমান বৈষম্য দূরীকরণে সংবিধানে স্পষ্ট রূপরেখা যুক্ত করার আহ্বান জানানো হয়। একই সাথে, ভবিষ্যতে কোনো সরকার যেন দলীয় স্বার্থে অবাধ নির্বাচনপ্রক্রিয়া ধ্বংস করতে না পারে, সেজন্য সংবিধানে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং তা চিরতরে সুরক্ষার কঠোর আইনি বিধান রাখার বিষয়েও বিশেষ জোর দেওয়া হয়।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত