সিলেট বিভাগে সেরা গুণী শিক্ষক লতিফা নিলুফার পাপড়ি

‘আমার প্রাণপ্রিয় শিক্ষার্থী, সহকর্মী, অভিভাবক এবং পুরো শিক্ষা পরিবারের অমূল্য ভালোবাসা ও সহযোগিতার ফলেই আজ এই শুভক্ষণে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে।’

আপডেট : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৫৮ পিএম
প্রাথমিক শিক্ষায় অনন্য ও প্রশংসনীয় অবদান এবং পেশাগত দক্ষতার স্বীকৃতিস্বরূপ সিলেট বিভাগের সেরা 'গুণী শিক্ষক' নির্বাচিত হয়েছেন লতিফা নিলুফার পাপড়ি। তিনি বর্তমানে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার গিয়াসনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন।
সিলেট বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক এ কে এম সাইফুল হাসান স্বাক্ষরিত এক দাপ্তরিক পত্রে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে। আসন্ন ৫ অক্টোবর 'বিশ্ব শিক্ষক দিবস' উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত বিভাগীয় মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় বিভাগের চার জেলার মনোনীত শিক্ষকদের কর্মদক্ষতা ও কৃতিত্ব বিশ্লেষণ করে তাকে এই মর্যাদাপূর্ণ খেতাবে ভূষিত করা হয়।
বিভাগীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের পর জাতীয় পর্যায়ের স্বীকৃতির জন্য লতিফা নিলুফার পাপড়ি ইতোমধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ঢাকায় অবস্থিত কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জাতীয় সার্চ কমিটির মুখোমুখি হয়েছেন। দেশব্যাপী আটটি বিভাগ থেকে বাছাইকৃত গুণী শিক্ষকদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, আগামী ৫ অক্টোবর আন্তর্জাতিক শিক্ষক দিবসের আগেই আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পর্যায়ের শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষকের নাম ঘোষণা করা হবে।
মৌলভীবাজারের শিক্ষাবিদ ও সহকর্মীদের মতে, দীর্ঘ কর্মজীবনে সততা, পেশাদারত্ব এবং সুপ্রভাতী দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখার ফলেই তিনি আজ বিভাগীয় পর্যায়ে সেরা হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন। শিক্ষায় অবদানের পাশাপাশি লতিফা নিলুফার পাপড়ির রয়েছে সমৃদ্ধ সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিভা। তিনি একাধারে কবি, প্রাবন্ধিক ও কথাসাহিত্যিক। ইতোমধ্যে তাঁর একাধিক গ্রন্থ প্রকাশিত হয়ে পাঠকপ্রিয়তা লাভ করেছে। নিয়মিত কলামিস্ট হিসেবে সমসাময়িক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিষয়ে জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদপত্রে লেখার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সুচিন্তিত মতামত প্রকাশে তিনি বেশ সুপরিচিত।
বিভাগীয় সেরা শিক্ষক নির্বাচিত হওয়ার অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে লতিফা নিলুফার পাপড়ি বলেন, ‘এই অর্জনকে আমি একক কোনো সাফল্য মনে করি না। আমার প্রাণপ্রিয় শিক্ষার্থী, সহকর্মী, অভিভাবক এবং পুরো শিক্ষা পরিবারের অমূল্য ভালোবাসা ও সহযোগিতার ফলেই আজ এই শুভক্ষণে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে। বিশেষ করে আমার বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের আন্তরিক তৎপরতা আমার এই পথচলাকে মসৃণ করেছে।’
নিজের পারিবারিক ঐতিহ্যের কথা উল্লেখ করে তিনি আবেগঘন কণ্ঠে যোগ করেন, ‘আমার বাবা অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কলেজ অধ্যক্ষ মোঃ মতিউর রহমান এবং মা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক সহকারী প্রধান শিক্ষক ফরিদা রহমান। শৈশব থেকেই তাদের শিক্ষা দান ও আদর্শ জীবনের ধরণ দেখে অনুপ্রাণিত হয়েছি। অন্য কোনো উচ্চপদের সরকারি চাকুরির সুযোগ থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র শিশুদের আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার অদম্য আকাক্সক্ষা থেকে আমি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকতাকে জীবনব্রত হিসেবে বেছে নিয়েছিলাম। শিক্ষক দম্পতির সন্তান হিসেবে এই পেশায় পাওয়া সম্মান আমার পরিবারেরই সম্মান।’
বিনম্র কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, ‘আমি একা গুণী নই, সংশ্লিষ্ট সকলের ভালোবাসাই আমাকে এই সম্মানজনক পরিচয়ে ভূষিত করেছে। এই অর্জনে আমি অহংকারী নই, বরং আরও বেশি বিনয়ী হয়ে প্রাথমিক শিক্ষা পরিবারের মর্যাদা রক্ষায় আত্মনিয়োগ করতে চাই। ভবিষ্যতের এই পথচলায় দেশবাসীর শুভকামনা ও দোয়া প্রত্যাশা করছি।’
 
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত