মানিকগঞ্জের সিংগাইরে চাঞ্চল্যকর দলবদ্ধধর্ষণ মামলায় চার আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার চারজনের মধ্যে দুজন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। অপর দুই আসামিও পুলিশের কাছে ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিংগাইর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. রেজাউল করিম পিপিএম। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন সিংগাইর উপজেলার কাপালিপাড়া গ্রামের মৃত সিলমত আলীর ছেলে ইয়াসিন (২১), গোবিন্দল তালতলা গ্রামের শাহানুর হোসেনের ছেলে শাহাদাত হোসেন (১৯), গোবিন্দল মোল্লাপাড়া গ্রামের হুরমুজ আলীর ছেলে লালন (২৬) এবং পারিল জৈল্যা গ্রামের কালামের ছেলে মাসুদ (২২)।
তদন্ত কর্মকর্তা জানান, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন স্থান থেকে ওই চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের মধ্যে ইয়াসিন ও শাহাদাত গত সোমবার দুপুরে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। লালন ও মাসুদ পুলিশের কাছে দলবদ্ধধর্ষণের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানান তিনি। তাদেরও ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি নেওয়ার জন্য আদালতে পাঠানো হচ্ছে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ সেপ্টেম্বর সিংগাইর উপজেলার উত্তর জৈল্যা গ্রামের এক নারী বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা পাঁচজনের বিরুদ্ধে দলবদ্ধধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করে।
এজাহারের অভিযোগ অনুযায়ী, বলধারা ইউনিয়নের ২৩ বছর বয়সী ওই নারী গত ২১ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ৯টার দিকে স্বামীর সঙ্গে নিজ কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন। রাত আনুমানিক ২টার দিকে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে ঘর থেকে বের হলে বাড়ির অদূরে টিউবওয়েলের পাশে কয়েকজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি তাকে অনুসরণ করেন।
অভিযোগে বলা হয়, পরে তারা ওই নারীকে জোরপূর্বক ধরে মুখ চেপে ও ভয়ভীতি দেখিয়ে বাড়ির পূর্বদিকে নিয়ে যায়। এরপর ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাকে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে কয়েকজন ধর্ষণ করে। পরে তার হাত-পা বেঁধে এবং মুখে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে তাকে সেখানে ফেলে রেখে যায়। পরে তার চাচা-শ্বশুর তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যান। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।