ক্লাব ফুটবলে দারুণ ছন্দে থাকার পর জাতীয় দলের জার্সিতে দীর্ঘ গোলখরা কাটিয়ে ওঠার স্বস্তি বেশিক্ষণ স্থায়ী হলো না রাফিনহার জন্য। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে গতকাল প্রীতি ম্যাচে গোল করে দলের জয়ে বড় অবদান রাখলেও উরুর পেশির চোটের কারণে শেষ পর্যন্ত ব্রাজিল ক্যাম্প ছাড়তে হয়েছে এই বার্সেলোনা ফরোয়ার্ডকে। যার ফলে কলকাতার যুবভারতী স্টেডিয়ামে ভারতের বিপক্ষে আগামী শনিবার আসন্ন প্রীতি ম্যাচে আর মাঠে নামা হচ্ছে না সেলেসাও তারকার।
ব্রিসবেনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৪-২ গোলের রোমাঞ্চকর জয়ে প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে পেনাল্টি থেকে গোল করে প্রায় ৫০০ দিনের আন্তর্জাতিক গোলখরা ঘুচিয়েছিলেন রাফিনহা। কিন্তু ডান উরুতে অস্বস্তি অনুভব করায় বিরতির পর আর মাঠেই নামেননি তিনি।
পরবর্তীতে ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশনের (সিবিএফ) পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে নিশ্চিত করা হয় যে, স্ক্যান ও ইমেজিং টেস্টে রাফিনিয়ার ডান উরুতে একটি মৃদু বা ‘ছোট’ মাত্রার মাসকুলার ইডেমা ধরা পড়েছে। কোনো ধরনের অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকি এড়াতে তাঁকে তৎক্ষণাৎ কাতালুনিকায় ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় ম্যানেজমেন্ট। কোচ কার্লো আনচেলত্তিও ভারতের বিপক্ষে এই ম্যাচের জন্য তার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে নতুন কাউকে দলে ডাকেননি। অবশ্য তার চোট থেকে সেরে উঠতে কত সময় লাগবে তা নিয়ে নিশ্চিত কিছু জানা যায়নি।
চলতি মৌসুমে বার্সেলোনার জার্সিতে আট ম্যাচে ১৪ গোল করে অবিশ্বাস্য ফর্মে আছেন রাফিনহা। এমন এক সময়ে দলের মূল তারকার পেশির চোটে পড়ার খবরটি স্বাভাবিকভাবেই দুশ্চিন্তার কালো মেঘ জমিয়েছে ক্যাম্প ন্যুতে।
এর আগেও গত মৌসুমে চার দফায় ডান উরুর চোটের কারণে দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে কাটাতে হয়েছিল তাকে। আন্তর্জাতিক বিরতির এই চোটাঘাত এবং ফিফার দীর্ঘ সূচি নিয়ে ক্লাবগুলোর বার্তি ঝুঁকির বিষয়টি স্পষ্ট করে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বার্সেলোনা সভাপতি হোয়ান লাপোর্তা।
কাতালুনিয়া রেডিওকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রাফিনিয়ার চোট নিয়ে নিজেদের অসন্তোষ প্রকাশ করে লাপোর্তা বলেন, ‘এই খবরটি আমাদের ভীষণ চিন্তায় ফেলেছে। আমরা মোটেও এতে খুশি নই। (আন্তর্জাতিক বিরতিতে) অন্য খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রেও এমনটা ঘটেছে, আর এই দীর্ঘ আন্তর্জাতিক বিরতিগুলোর ঝুঁকি ঠিক এমনই হয়। আমরা এখন এমআরআই রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করছি।’
ফিফা বিরতি শেষে আগামী ১০ অক্টোবর লা লিগায় গেতাফের বিপক্ষে খেলবে বার্সেলোনা। তার আগে স্বল্প এই সময়ে রাফিনহার সেরে উঠবেন কি-না সেটাই এখন কাতালানদের জন্য সবচেয়ে বড় শঙ্কার বিষয়।
জাপানে রোদ দেখে স্বস্তিতে বাংলাদেশ