বিশ্ব পর্যটন দিবসের আলোচনায় বাংলাদেশের সুন্দরবন, কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতসহ বিভিন্ন ধর্মীয় স্থাপনা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য নিয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন ১০ জন কূটনীতিক।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড (বিটিবি) আয়োজিত ‘অংশীজন ও বৈদেশিক কূটনীতিকদের সঙ্গে মতবিনিময়’ সভায় কূটনীতিকরা এ আগ্রহের কথা জানান।
সভায় পশ্চিম এশিয়ার ইরান ও ইরাক, ইউরোপের তুরস্ক, মধ্যপ্রাচ্যের ওমান, আফ্রিকার আলজেরিয়া এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ভুটান ও পাকিস্তান ছাড়াও চীন, সিঙ্গাপুর ও ইউনেস্কোর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
বিটিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোতাসিম বিল্লাহ ফারুকী দেশ রূপান্তরকে বলেন, বাংলাদেশের সুন্দরবন, কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত, সিলেট অঞ্চলের বৈচিত্র এবং বিভিন্ন ধর্মীয় স্থাপনা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য নিয়ে কূটনীতিকরা ব্যাপক আগ্রহ দেখিয়েছেন।
তিনি বলেন, কূটনীতিকরা বাংলাদেশ ও সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মধ্যে পর্যটন বিনিময়ে আগ্রহ দেখিয়েছেন। এ ক্ষেত্রে বেসরকারি ট্যুর অপারেটরদের কীভাবে কাজে লাগানো যায়, তা খুঁজে বের করার পরামর্শও দিয়েছেন তারা।
বিটিবির সিইও বলেন, পর্যটনের সম্ভাবনা বহুমাত্রিক। শুধু আমরাই বিদেশি পর্যটক চাইব—এটা ব্যবসার ধরন হতে পারে না। আমাদেরও অনেক পর্যটক নিয়মিত বিদেশে ঘুরতে যান। তাদের জন্য পশ্চিম এশিয়া, আফ্রিকাসহ পর্যটনের সম্ভাবনাময় দেশগুলোর সংস্কৃতি নিয়ে প্যাকেজ ট্যুরের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। আমাদের বেসরকারি ট্যুর অপারেটরদের এ ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালনের সুযোগ রয়েছে।
তিনি বলেন, এর সঙ্গে বিমান পরিবহনের ব্যবসাও জড়িত। পর্যটক যত বাড়বে, বিমানে যাত্রীও তত বাড়বে।
বাংলাদেশের পর্যটনসম্পদের বৈচিত্র তুলে ধরে মোতাসিম বিল্লাহ ফারুকী বলেন, রিসোর্সের দিক থেকে বাংলাদেশ অনেক সমৃদ্ধ। নেপালে পাহাড় আছে, মালদ্বীপে সমুদ্র আছে; কিন্তু বাংলাদেশে নদী, সমুদ্র, পাহাড়, হাওর ও বন—সবই রয়েছে। রয়েছে বিশ্বের অন্যতম সমাদৃত ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন, দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত, রাঙামাটির লেক ও সিলেটের নয়নাভিরাম হাওর।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের রয়েছে হাজার বছরের ইতিহাস, ঐতিহাসিক স্থাপনা, ২ হাজার গম্বুজের অনিন্দ্য সুন্দর মসজিদসহ বিভিন্ন ধর্মীয় স্থাপনা, বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি, বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর জীবনধারা এবং মানুষের আতিথেয়তার ঐতিহ্য।
এসব সম্পদকে পরিকল্পিতভাবে পূর্ণাঙ্গ প্যাকেজে উপস্থাপন এবং বিদেশে প্রচার করতে পারলে বাংলাদেশকে নতুন পর্যটন গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি। তবে এ ক্ষেত্রে অবকাঠামো, নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনায় কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলেও জানান তিনি।
মোতাসিম বিল্লাহ ফারুকী বলেন, এখন পর্যটক শুধু একটি স্থান দেখতে চান না; তিনি একটি পূর্ণাঙ্গ অভিজ্ঞতা চান। স্থানীয় খাবার, সংস্কৃতি, পণ্য ও মানুষের জীবনযাপন—সবকিছুকে একত্র করে পর্যটন প্যাকেজ তৈরি করতে হবে।
কূটনীতিকদের মতামতের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সংস্কৃতি পর্যটনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। সংস্কৃতিকে যত সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা যাবে, পর্যটনও তত সমৃদ্ধ হবে। এ কারণে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়, শিল্পকলা একাডেমিসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে সঙ্গে নিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
নিরাপত্তার গুরুত্ব তুলে ধরে বিটিবির সিইও বলেন, পর্যটনের জন্য নিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা ট্যুরিস্ট পুলিশ ও ইমিগ্রেশন পুলিশের সঙ্গে সরাসরি কাজ করছি এবং প্রশিক্ষণ কর্মসূচিও শুরু করেছি। একজন বিদেশি পর্যটক দেশে প্রবেশের সময় ইমিগ্রেশন পুলিশের আচরণ থেকেই বাংলাদেশের প্রথম অভিজ্ঞতা পান। পর্যটন এলাকায় ট্যুরিস্ট পুলিশের সেবাও তার অভিজ্ঞতার অংশ।