চুয়েটের আন্দোলন ৯ম দিন

চোখে কালো কাপড় বেঁধে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

আপডেট : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:০০ পিএম

সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নবম দিনে গড়িয়েছে। এখন পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না আসায় চোখে কালো কাপড় বেঁধে প্রতিবাদ মিছিল করেছেন শিক্ষার্থীরা। একই দাবিতে চুয়েটের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা কর্মবিরতি পালন করছেন।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুর ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ঘুরে পুনরায় শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়।

মিছিলে শিক্ষার্থীরা ‘প্রশাসন নীরব কেন, জবাব চাই, জবাব চাই’, ‘ভিসি স্যার, ভিসি স্যার-সায়েম স্যার, সায়েম স্যার’ এবং ‘মোদের দাবি একটাই, সায়েম স্যারকে ভিসি চাই’সহ নানা স্লোগান দেন।

বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা জানান, টানা ৯ দিন ধরে কর্মসূচি চললেও দাবির বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। প্রশাসনের এই উদাসীনতা ও নীরবতার প্রতি নীরব প্রতিবাদ জানাতেই তারা চোখে কালো কাপড় বেঁধে রাজপথে নেমেছেন। তবে দ্রুতই সরকার শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের এই প্রাণের দাবি মেনে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাভাবিক শিক্ষাকার্যক্রম ফিরিয়ে আনবে বলে প্রত্যাশা তাদের।

প্রতিবাদ মিছিলে অংশ নিয়ে পুরকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ইজাজ মাহমুদ খান বলেন,‘অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে দেখছি, প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না কিংবা কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। এর প্রতিবাদেই আজ আমরা চোখে কালো কাপড় বেঁধে রাজপথে নেমেছি।’

এই দিন শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে ও সাবেক উপাচার্যকে ফিরিয়ে আনার দাবিতে সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত উপাচার্য ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে কর্মবিরতি পালন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।

চুয়েট অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. একরাম বলেন, ‘আমরা আমাদের দাবিতে প্রতিদিনই কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি পালন যাচ্ছি। আরও কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তা সভা করে জানানো হবে।’

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে নতুন উপাচার্য ড. শেখ শরীফুল আলম বলেন, সবার সঙ্গে আলাপ আলোচনা চলছে। আগামী সপ্তাহের মধ্যে সমাধানে পৌঁছাতে পারব বলে আমি আশাবাদী।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত